রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্য, গত এক বছরে ৩৪৬ গ্রেপ্তার – দৈনিক আজাদী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্য, গত এক বছরে ৩৪৬ গ্রেপ্তার – দৈনিক আজাদী

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ক্রমবর্ধমান। এপিবিএনের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা একে৪৭সহ ভয়ংকর অস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র বাণিজ্য চালাচ্ছে। গত এক বছরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ৩৪৬ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অপহৃত ৭৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে।

জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের তিনটি ব্যাটালিয়ন ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার রাখে। ২০১৭ সাল থেকে এসব ব্যাটালিয়ন সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্য রোধ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বন্ধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চালিয়ে আসছে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এক ব্যাটালিয়ন ৩৪৬ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ৫৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।

অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, সাতটি ওয়ানশুটার গান, ১৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ম্যাগজিন একটি, ২১ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি কার্তুজ ও চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৯ হাজার ৭১৩ পিস ইয়াবা, ভাঙা গুড়া ১৩৮ গ্রাম, গাঁজা ১.৯০৪ কেজি, ৫৫.৫০ লিটার মদ এবং ৫২৬টি বিয়ার ক্যান। অভিযানে ৭৩ জন অপহৃত ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে মজুদকৃত রেশন, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, নগদ অর্থ ও চোরাইমালামালসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ও পাহাড়ি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন হয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযান সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক পাচার ও অস্ত্র উদ্ধার কার্যকরভাবে দমন করেছে। অভিযান জোরদার রাখা হবে।

সাধারণ রোহিঙ্গারা জানান, এসব সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র বাণিজ্য চালায়। কাউকে বাধা দিলে বা তারা কাউকে বাধা মনে করলে টার্গেট করে হত্যা করা হয়। এই সন্ত্রাসীদের হাতে শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহসহ বহু নেতা ও স্থানীয় মানুষ নিহত হয়েছেন।

Explore More Districts