গত বছরের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৌমিতা জামান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এতে চিকিৎসাকেন্দ্রের অবহেলা ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা ১৭ জুলাই মানববন্ধন শেষে চিকিৎসাকেন্দ্রকে ‘নাপা সেন্টার’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে উন্নত মানের কোনো সেবা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাব তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে কিছু হলেই হাতে নাপা মেডিসিন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেশির ভাগ সময়ই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানো হয়। জুলাই–পরবর্তী প্রশাসন সংস্কারের আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে থেকে শিক্ষার্থীরা এক্স-রে, ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি (ইসিজি), ফিজিওথেরাপি, প্রেশার মনিটর, আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রায় ৬০ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর ও সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জয়ীতা রায় প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ না করেই শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতা শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যায় না।
জানতে চাইলে প্রধান চিকিৎসক মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেডিক্যাল সেন্টার শনিবার খোলা রাখা হচ্ছে। ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি (ইসিজি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু করা হয়েছে। প্যাথলজিতে ইএসআর অ্যানালাইজার যন্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক কোটি টাকা বাজেটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবার জন্য একজন গাইনি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


