রাজাপুরের বাগড়ির একমাত্র খাল মৃত্যুপথযাত্রী, পানি সংকটে চাষাবাদ ও কয়েক হাজার পরিবার বিপর্যস্ত

রাজাপুরের বাগড়ির একমাত্র খাল মৃত্যুপথযাত্রী, পানি সংকটে চাষাবাদ ও কয়েক হাজার পরিবার বিপর্যস্ত

১৩ January ২০২৬ Tuesday ৭:২২:৩৩ PM

Print this E-mail this


রহিম রেজা, রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাব:

রাজাপুরের বাগড়ির একমাত্র খাল মৃত্যুপথযাত্রী, পানি সংকটে চাষাবাদ ও কয়েক হাজার পরিবার বিপর্যস্ত

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার জামে মসজিদ থেকে ফকিরবাড়ী পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র খালটি বর্তমানে চরম অবহেলার শিকার হয়ে কার্যত মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায় পৌঁছেছে। বছরের পর বছর পলি মাটি জমে এবং নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খালের দুই পাশের হাজার হাজার বসতি পরিবার ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে। যেখানে শত শত কৃষক জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। স্থানীয় কৃষক সেলিম ও মহারাজের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই খালটি তাদের সেচ ব্যবস্থার একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্তমানে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বোরো ও আমন মৌসুমে সময়মতো চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি অনাবাদি রেখে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
খালটির দুই পাশের কিছু অসচেতন বসবাসকারী নিয়মিত পঁচা জীবজন্তু, গৃহস্থালি বর্জ্য ও নানা ধরনের আবর্জনা খালে ফেলায় পানির গুণগত মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়, বাড়ছে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি। স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক স্কুল শিক্ষক খায়রুল আলম ও বশির মৃধা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সমস্যা নিয়ে ভোগান্তিতে থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত চালানো হলে খালের ভয়াবহ অবস্থা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। উপজেলা ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজাপুর উপজেলার ৪৮ নম্বর পশ্চিম চর বাঘরী ও ৪৯ নম্বর বাঘরী মৌজার অন্তর্ভুক্ত বাহার নাগ খালটি বর্তমানে পলি মাটিতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে জরাট হয়ে আছে। পাশাপাশি খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ জমে থাকায় পানি চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তদন্তে বাঘরী বাজার জামে মসজিদ থেকে ফকিরবাড়ী পর্যন্ত পুরো অংশ দ্রুত পরিস্কার ও খননের প্রয়োজনীয়তা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, এই খালটি শুধু কৃষি সেচের জন্য নয়, বরং এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে খালটি কার্যকর না থাকায় আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে খালটির ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও পুনঃখননের কাজ শুরু করা হোক। তারা আশা প্রকাশ করেন, খালটি পুনরুদ্ধার হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে এবং পুরো এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)





সপ্তাহের ব্যবধানে বরিশালে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে সবজির দাম

ঢাকা-বরিশাল নৌরুট: নৌপথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

গণভোটের মার্কা হচ্ছে টিকচিহ্ন: বরিশালে আলী রীয়াজ

হাতপাখার ফয়জুল করীমের আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের পথে জামায়াত

বরিশালের ৬টি আসনের প্রার্থীদের নামে শতাধিক মামলা

Explore More Districts