মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেই রওশন আরা জানতে পারেন, আরেকটা বিয়ে করেছেন তাঁর স্বামী। আর কোনো দিন স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাননি তিনি। একসময় জীবিকার প্রয়োজনে মেয়ে আলিয়াকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে চলে আসেন রাজশাহী। শহরে শুরু হয় মা–মেয়ের সংসার।
১৯৯৯ সালে আলিয়াকে বিয়ে দেন তাঁর মা। তখন তাঁর বয়স মোটে ১৩ বছর। কিন্তু চাহিদামতো যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তিন বছরের মাথায় আলিয়াকে ফেলে চলে যান তাঁর স্বামী। তত দিনে তাঁর একটা মেয়ে হয়েছে, নাম টুম্পা। খোঁজখবর নিতে গিয়ে দেখেন, মোটা অঙ্কের যৌতুক নিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করেছেন স্বামী। মেয়েটা আবার প্রতিবন্ধী। মামলা করলে প্রতিবন্ধী মেয়েটা বিপদে পড়বে ভেবে ফিরে
আসেন আলিয়া।
দেড় বছর বয়সের মেয়েকে নিয়ে তো চলতে হবে। বই বাঁধাইয়ের কাজ নিলেন আলিয়া। এক হাজার পৃষ্ঠা বাঁধাই করলে পান ২৫ টাকা। তাতে সংসার চলে না। এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নূরজাহান বেগমের সঙ্গে পরিচয়। তিনিই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেই থেকে হাসপাতালে ট্রলি ঠেলতে শুরু করেন আলিয়া।
একদিন আলিয়ার চোখের সামনেই মারা যায় দুজন মানুষ। তাদের কোনো পরিচয় জানা গেল না। বিষয়টি তাঁকে চরমভাবে নাড়া দিল। তখন থেকে অভিভাবকহীন রোগী হাসপাতালে এলেই ছুটে যান আলিয়া। মুখে একটু পানি দেন, নিজের টাকা দিয়ে হলেও কিনে আনেন জরুরি ওষুধ। মানুষকে সুস্থ করে তুলতে পারলেই মুখে হাসি ফোটে। রোগী সুস্থ হয়ে উঠলে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই যুগে কয়েক শ মানুষকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন আলিয়া।


