রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা বান্দার নেক আমলের প্রতিদান বহু গুণ বাড়িয়ে দেন। তাই রমজান কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের সময় নয়; বরং অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করারও সুবর্ণ সুযোগ। একজন রোজাদারকে ইফতার করানো এমন একটি আমল, যা সামান্য সামর্থ্য দিয়েও অসীম সওয়াবের দরজা খুলে দিতে পারে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সাহায্য করো। এই নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় রোজাদারকে ইফতার করানোর মাধ্যমে। একজন মুমিন সারাদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করেন। দিনের শেষে তাকে ইফতার করাতে সামান্য খাবার বা পানীয় দিয়ে সহায়তা করা মানে তার ইবাদতের অংশীদার হওয়া।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। এই হাদিস আমাদের জন্য এক বিশাল প্রেরণা। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি কিংবা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমান প্রতিদান লাভ করতে পারেন। অর্থাৎ ইফতার করানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ইবাদত।
কোরআনে নেককারদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়। রমজানে অসচ্ছল ও দরিদ্র রোজাদারদের ইফতার করানো এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ। এতে যেমন ক্ষুধার্ত মানুষের উপকার হয়, তেমনি দাতার অন্তরে মানবিকতা ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।
ইফতার আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। মসজিদ, মহল্লা কিংবা পরিবারের সবাই একসঙ্গে ইফতার করলে পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ে, ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে এবং ইসলামের সাম্য ও সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তবে এই আয়োজন যেন আড়ম্বর, প্রতিযোগিতা বা অপচয়ের রূপ না নেয়— সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। তাই ইফতারের ক্ষেত্রে বাহ্যিক জাঁকজমক নয়, বরং আন্তরিকতা ও ইখলাসই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
রমজান আমাদের শেখায়, নিজের ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যের কল্যাণেও এগিয়ে আসতে। একটি খেজুর বা এক গ্লাস পানিও হতে পারে অফুরন্ত সওয়াবের মাধ্যম। তাই এই বরকতময় মাসে রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং দান, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।

