রংপুরে এএসআই নিয়োগে পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুরে এএসআই নিয়োগে পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুরে এএসআই নিয়োগে পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি,

রংপুর ।

ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার ও প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে চার সদস্যের একটি দালাল চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রংপুর জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে ফেইস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশের সময় আশরাফুল ইসলাম (২১) নামে এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাডেমিক ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্সি পরীক্ষার্থী তাজমিলুর রহমান (১৯)-কে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মরত বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) ও নুরুল ইসলাম (৪৬)-এর সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়। এ জন্য তিনি দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তার কাছে একটি ভুয়া প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। যদিও তিনি নিয়োগের কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেননি।

আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরপিএমপির কোতোয়ালি থানার সহায়তায় ঢাকা থেকে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। এছাড়া তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত। এ চক্রের সঙ্গে আরও ২ থেকে ৩ জন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট ও বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

Explore More Districts