নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে আবার হরতালের ডাক দিয়েছে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ। আগামী রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টা বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে হরতাল এবং অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। এর আগে একই দাবিতে একই সংগঠনের ডাকে গত ১৬ জুলাই সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করা হয় ফটিকছড়ি উত্তরের তিন ইউনিয়নে।
রোববারের হরতালের সমর্থনে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ‘উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ’–এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষ, ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মিছিলটি শান্তিরহাটের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধাজনক স্থানে না করে পূর্বের ফটিকছড়ি উপজেলার একেবারেই নিকটবর্তী পশ্চিম ভুজপুর মৌজায় স্থাপনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উপজেলা গঠনের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে।
সমাবেশে আন্দোলন ও ডাকা হরতালের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নুরুল আমিন হাসান, মুহাম্মদ শামসুদ্দিন, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, ইদ্রিস মিয়া ইলিয়াস, আহামদ সাফা মেম্বার, ইলিয়াস মেম্বার, একরামুল হক ও আলি আহমদ মাস্টার। বক্তারা বলেন, উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন এর সদর দপ্তরও অবশ্যই উত্তরাঞ্চলেই হতে হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৬ জুলাই সকাল থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। শান্তিরহাটের সমাবেশ থেকে নেতারা বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের আওতাধীন এলাকায় এই হরতাল–অবরোধ সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার ও সোমবার ঢাকা–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং বারইয়ারহাট–ফটিকছড়ি (হেয়াঁকো) সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, ফার্মেসি এবং পরীক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন এই হরতাল ও অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে আন্দোলনকারী কমিটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


