
তেহরান, ১৮ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনসমর্থন সাময়িকভাবে কিছুটা বাড়িয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হতে পারেন। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল।
এর পাশাপাশি ঘুষ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে চলমান বিচার প্রক্রিয়া তাকে আরও নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যদি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরান সরকারের পতন ঘটে, তবেই কেবল নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূলে আসতে পারে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গত ৫ মার্চের একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। তবে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে এই সমর্থন বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। চ্যানেল ১৩ এর ১০ মার্চের অপর একটি জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৫টি আসন নিয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখলেও ক্ষমতাসীন জোট মোট ৫১টি আসন পাবে।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে এটি ১০টি কম। বিশ্লেষক গিডিয়ন রাহাত মনে করেন, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধের মাধ্যমে নিজের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন। তবে ইরান সরকারের পতন খুব সহজে হবে বলে মনে হচ্ছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যুদ্ধ শুরুর দিকে অত্যধিক প্রত্যাশা রেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নেতানিয়াহু ২০২২ সালের মতো আবারও নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিরোধী জোট ভাঙার চেষ্টা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিরোধী নেতা ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, তিনি যুদ্ধের সাফল্যকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন এবং সম্ভবত ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীর আগেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অতি গোঁড়া ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ তরুণরা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকার অজুহাতে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাল স্নাইডারের মতে, নেতানিয়াহু বিরোধী শিবিরের মূল চালিকাশক্তি হলো এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ।
এস এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬



