যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিমত, ইরানকে নির্মূল করার পরামর্শ রেজা পাহলভির

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিমত, ইরানকে নির্মূল করার পরামর্শ রেজা পাহলভির

নির্মূল করার পরামর্শ
ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি দেশটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরানে তথাকথিত কোনো ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি।

পাহলভির মতে, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা মূলত আগের সেই একই গোষ্ঠী, যারা হয়তো চলমান সংঘাতের কারণে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এবং তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, রেজা পাহলভির এই বক্তব্য তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা পাহলভি সাক্ষাৎকারে বর্তমান ইরানি প্রশাসনকে একটি ‘আহত প্রাণীর’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, একে অবশ্যই পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। তিনি মনে করেন, এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা বা তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা অহেতুক।

উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ইরানকে পুনরায় ‘মহান রাষ্ট্রে’ পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি ইরানে একটি আমূল পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন যা বর্তমান প্রশাসনের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলবে।

রেজা পাহলভির এই বিরোধিতার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত। তার পিতা মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ছিলেন ইরানের শেষ সম্রাট, যাকে ওই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নির্বাসনে থাকা এই রাজপুত্র বারবার বর্তমান ইরানি নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে আসছেন। বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পরিবর্তনের দাবি করছে, তখন পাহলভির এই ‘একই মানুষ’ তত্ত্বটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

সার্বিকভাবে রেজা পাহলভির এই মন্তব্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে পাহলভির মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা সেই দাবিকে ‘ভ্রান্ত’ বলে অভিহিত করছেন।

গুলি করে হত্যার ১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ

শুক্রবারের ইসলামাবাদ আলোচনার আগে তার এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্বনেতাদের ভবিষ্যৎ কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Explore More Districts