সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের প্রতিবাদে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট, যশোর জেলা শাখা।
বুধবার (১৩ মে ২০২৬) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঝিকরগাছা-চৌগাছা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু গোলাম কুদ্দুস, দপ্তর সম্পাদক শাহাবুদ্দিন ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১২ মে মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যক্তিগত কাজ শেষে ফেরার পথে জহিরুল ইসলামকে একদল ব্যক্তি পথরোধ করে তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়। পরে তাকে জোরপূর্বক একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জহিরুল ইসলামকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা, ব্যাংক চেক, এটিএম কার্ড ও পিন নম্বর নিয়ে অর্থ উত্তোলন ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আল আমিন নামে আরেক কর্মীকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে তাকেও মারধর করা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আহত জহিরুল ইসলামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটিকে “দুর্ঘটনা” হিসেবে রেকর্ড করাতে চাপ প্রয়োগ করে। পরে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ সময় তারা দাবি করেন, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে কিছু ব্যক্তি অভিযোগ গ্রহণে বাধা প্রদান করে। ভুক্তভোগী পক্ষ এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপহরণকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না।” তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


