যশোরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

যশোরে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট (১৩টি বাম দলের জোট) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে যশোরে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) বেলা ১১টায় যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যশোর জেলা সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন হিরু,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জনার্দন দত্ত নান্টু এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক তসলিম-উর-রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কথিত অসম বাণিজ্যচুক্তি’বাতিলসহ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধ, ইরানে হামলা বন্ধ এবং ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন,‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে এলএনজি, গম, সয়াবিন ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে, যা কৃষি ও শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে বিনা দরপত্রে উড়োজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের শর্ত দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

তারা অভিযোগ করেন, চুক্তির বিভিন্ন ধারা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি এবং এটি একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন বক্তারা।

সভায় আরও বলা হয়, এ ধরনের চুক্তির কারণে দেশের কৃষি, পোলট্রি, মৎস্য ও দুগ্ধ খাতে কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং তৈরি পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, গাজায় সংঘাত, কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেন এবং বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভা থেকে অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, বিদেশি চুক্তিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ এবং জাতীয় সংসদে আলোচনা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—১১ এপ্রিল জেলা ও উপজেলায় সমাবেশ ও মিছিল, ১৬ থেকে ২২ এপ্রিল ‘প্রচার সপ্তাহ’ পালন এবং ২৭ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান

Explore More Districts