যশোরে গৃহবধূর মুখে জোর করে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ

যশোরে গৃহবধূর মুখে জোর করে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ

যশোরে এক গৃহবধূর মুখে জোর করে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

নিহত গৃহবধূ অনিকা বিশ্বাস সদর উপজেলার সাতমাইল বারিনগর বাজার এলাকার বড় হরিপদপুর গ্রামের রতন বিশ্বাসের মেয়ে। তার স্বামী শুভঙ্কর দাস একই উপজেলার দাউতলা ফতেপুর গ্রামের মৃত অনিল দাসের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে অনিকা বিশ্বাসের সঙ্গে শুভঙ্কর দাসের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে অনিকাকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নগদ টাকা সহ পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হলেও বিভিন্ন সময় আরও টাকার জন্য অনিকাকে নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসাও করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্বামী শুভঙ্কর দাস, শাশুড়ি নমিতা দাস ও ননদ চায়না দাস মিলে অনিকাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১ মার্চ তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে ৭ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১০ মার্চ তাকে বাড়িতে আনা হয়। তবে আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৩ মার্চ পুনরায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই নয়ন দাস জানান, মৃত্যুর আগে অনিকা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে জানিয়ে যায় যে তাকে নির্যাতনের পর অচেতন অবস্থায় মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী থানায় মামলা না করে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
এ ঘটনায় এখনও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে স্বামী শুভঙ্কর দাসের কাছে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি বা আমার পরিবার তার মুখে জোর করে কোন বিষ খাওয়াইনি। আমাদের মেয়েকে মারার কারণে আমি তাকে বকাবকি করেছিলাম। এ কারণে অনিকা নিজেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

Explore More Districts