যশোরে কানাডা প্রবাসীর তালকাপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বাড়ি দখল করে দিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ

যশোরে কানাডা প্রবাসীর তালকাপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বাড়ি দখল করে দিয়েছে কোতয়ালি থানা পুলিশ

যশোর শহরের শহিদ মশিউর রহমান সড়কের বাসিন্দা কানাডা প্রবাসী মাসুম হোসেন সিদ্দিকির পৈক্রিক বাড়ি দখল করে নিয়ে তার তালাক দেয়া স্ত্রী শরিফা আক্তার পিয়া। এ বাড়ি দখলের সহযোগীতা করেছেন কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল আলম চৌধুরীসহ ১০/১২ জন পুলিশ সদস্য এবং ২০/২৫ জন সন্ত্রসী। এ সময় বাড়ি দখলে বাধা দিলে মাসুম হোসেন ও তার বোনকে মারপিট করে আহত করে পুলিশ। রোববার প্রেসক্লাব যশোরের শহিদ সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুল অডিটোরিয়ায়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে ভুক্তোভোগী মাসুম হোসেন সিদ্দিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বড় বোন রনজিলা বেগম।

লিখিত বক্তব্যে মাসুম হোসেন সিদ্দিক বলেন, যশোরের পুরাতন কসবার শহিদ মশিউর রহমান সড়কে ৯ শতক জমিতে তার পৈত্রিক বসতবাড়ি। যেখানে একটি তিনতলা ও একটি দ্বি-তলা ভবন সহ ৯টি দোকান ঘর আছে। এ জমির মধ্যে ৮ দশমিক ৮৭ শতক জমি ভুলবশতঃ আমার নামে রেকর্ড হয়ে যায়। যা নিয়ে আমার বোনেরা আদালতে মামলা করেন।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আমার মামাতো বোন স্বামী পরিত্যক্ত শরিফা আক্তার পিয়াকে দুই সন্তানসহ বিয়ে করি। বিয়ের পর আমার নামে রেকর্ড হওয়ায় জমি পিয়ার নামে দলিল করে দেয়া হয়। পিয়াকে আমি কানাড়া নিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। পিয়ার পাসপোর্ট ভেরিফিগেশন অফিসার তৎকালিন যশোর ডিএসবি অফিসের এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে পরোকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আমি কানাড়া থেকে ফিরে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হলে নানা সমস্যা শুরু হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রী পিয়াকে তালাক দেয়। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী পিয়া বাড়ি থেকে না যেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় আমার বাড়িতে অবস্থান করে এবং আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে জমির রেকর্ড সংশোধনী মামলার রায়ে সব ভাই বোনেরা মালিকানা লাভ করে। তারপরও আমার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী পিয়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমার পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করছে। বর্তমানে পিয়া ও তার সহযোগীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্পত্তি বিক্রির পায়তারা করছে। শুধু তাই নয় পিয়া কোতয়ালি থানার পুলিশকে ভুল বুঝিয়ে আমি ও আমার বোনকে মারপিট করে বাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে দখল নিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে আমরা বাড়ি ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তিনি জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Explore More Districts