স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে জনবল নিয়োগে বড় ধরনের একটি জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগ কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাশ কাটিয়ে এই দুই বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি-২৬ এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও অধ্যাপক পদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগেও করা হয়েছে অনিয়ম।
জানা গেছে, গত ১৭/১২/২০২৫ ইং তারিখে যবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগে অধ্যাপক পদে লোক নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যার আবেদনের শেষ তারিখ ছিল গত ১১/০১/২০২৬ ইং তারিখ। পরদিন ১২/০১/২০২৬ ইং তারিখে তিন (৩) জন প্রার্থীকে আগামী ১৯/০১/২০২৬ ইং তারিখে নিয়োগ বাছাই বোর্ডের সভায় হাজির হওয়ার জন্য কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। তিনজন প্রার্থী হলেন, ডক্টর শহিদুল ইসলাম-পিতা মো. ওয়ালিয়ার রহমান, ডক্টর এস এম আক্তারুজ্জামান-পিতা মো. সমির উদ্দিন এবং ডক্টর মো. কামরুল হাসান-পিতা মরহুম মমতাজ আলী প্রামানিক। ১৯ জানুয়ারির এই বোর্ডেই তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে এমনটাই জানিয়েছে সূত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, কোনো নিয়োগ বোর্ড করার আগে আবেদনগুলো প্লানিং কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে পাঠানো হয়। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে ডাকযোগে অথবা সরাসরি পাঠানো হয় এক্সপার্ট কমিটির সদস্যদের কাছে। যারা পৃথক পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তাদের কাছ থেকে সুপারিশ আসার পর রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়।
এ সংক্রান্ত ইস্যু করা চিঠিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি আবেদনের শেষ তারিখ ছিল। পরদিন ১২ জানুয়ারি তিনজন (৩) প্রার্থীকে নিয়োগ বাছাই বোর্ডে হাজির হতে তাদের নামে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এই একদিনের মধ্যে যাচাই বাছাই কীভাবে সম্পন্ন করা হলো? নাকি কোনো যাচাই বাছাই করা হয়নি? আর যদি করা হয়েই থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে সম্ভব?
সূত্রের বরাতে আরও একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, আর তা হলো নিয়োগসংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন। অর্থাৎ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিজীবীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ করে যবিপ্রবিতে ইতঃপূর্বে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা ধরা হতো। সেটি পরিবর্তন করে ৭৫% অর্থাৎ ১২ বছর করা হয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে-শুধুমাত্র পছন্দের লোকদের নিয়োগ প্রদানের জন্যই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, একই ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেও। এই বিভাগেও উপরিল্লিখিত তারিখে একইভাবে অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই বিভাগে শুধুমাত্র একজনের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। আর তিনি হলেন- ডক্টর ইঞ্জিনিয়ার ইমরান খান, পিতা-মো. আব্দুল কাদের খান।
অপরদিকে, অভিযোগ পাওয়া গেছে, মার্কেটিং বিভাগে অধ্যাপকের বিপরীতে মো. আরিফ উল্লাহ নামে একজনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তিনি গত ০৭ ডিসেম্বর-২৫ ওই পদে যোগদান করেন। এ ক্ষেত্রে রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট সকল নিয়মকানুন ‘ফলো’ করা হয়েছিল। এর ১৩ দিন পর গত ২০ ডিসেম্বর-২৫ ওই একই ব্যক্তিকে পুনরায় সহযোগী অধ্যাপকের বিপরীতে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক্ষেত্রে রিজেন্ট বোর্ডের কোনো অনুমোদন বা নিয়মকানুন ‘ফলো’ করা হয়নি। তড়িঘড়ি করে এই কাজটি করা হয়েছে, শুধুমাত্র অধ্যাপক পদটি ফাঁকা করার জন্যই। কারণ হিসেবে জানা গেছে, অধ্যাপক পদটি ফাঁকা না হলে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা ছিল।
এ ব্যাপারে যবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের ডিন ডক্টর কামাল হোসেনের কাছে একদিনের মধ্যে যাচাই বাছাই এবং এক্সপার্ট কমিটির মতামত কীভাবে নেওয়া হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত থাকে না। আমরা প্লানিং করে পাঠিয়ে দিয়েছি রেজিস্ট্রার দপ্তরে, বাকী কাজ উনারাই করবেন। উনারা কি করেছেন তা আমি বলতে পারবো না।’
এ ব্যাপারে যবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবকিছুই নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে। আর এখনতো ডিজিটাল যুগ-ওরা হয়ত জরুরি ভিত্তিতে এক্সপার্ট মেম্বারদের কাছে মেইলে পাঠিয়ে মতামত নিয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।’


