মৌলভীবাজারে জামায়াত কর্মীর খামারে আগুন

মৌলভীবাজারে জামায়াত কর্মীর খামারে আগুন

মৌলভীবাজারে জামায়াত কর্মীর খামারে আগুন

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের বুদ্ধিমন্তপুর গ্রামে জামায়াত নেতার গবাদিপশুর খামারে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) রাতে এই বর্বরোচিত ঘটনায় বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু ও হাঁস জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার শবেবরাত উপলক্ষে সন্ধ্যায় খামারে থাকা গরু, হাঁস ও ভেড়াকে খাবার দিয়ে খামারের কর্মীরা চলে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের গ্রামের বাসিন্দারা খামারে আগুন জ্বলতে দেখে মালিকপক্ষকে খবর দেন। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যসহ গ্রামবাসী চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।

অগ্নিসংযোগের এ ঘটনায় খামারে থাকা ৫০টি গরুর মধ্যে ১৩টিকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও বাকি সবকটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। পাশাপাশি খামারে থাকা প্রায় ৫০০টি হাঁস ও ১০টি ভেড়াও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

খামার মালিক ওসমান গনি জানান, গতকাল রাতে এশার নামাজ আদায় শেষে গিয়ে দেখি আমার খামারে আগুন জ্বলছে। নড়িয়া থেকে আমার ভাতিজা একজন ফোন করে জানায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও মুহূর্তের মধ্যেই আমার সবকিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। ৫০০ টি হাঁস, ৫০ টি গরু, ভেড়া ১০টি ও ১৫-২০ টি মুরুগ ছিল। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা।

তিনি আরও বলেন, আমি জামায়াতের কর্মী হিসেবে এই গ্রামে আছি, আমার ফুফাতো ভাইও আছে, এজন্য আমাদেরকে মামলার হুমকিধামকি দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে আমাদের জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ঝামেলা ছিল। আমার এখানে যারা আগুন ধরিয়েছে তারা আওয়ামিলীগের সাথে আগে যুক্ত ছিল এবং এখন বিএনপি করে। তারা আমাদের জায়গা আওয়ামিলীগের সময় দখল করেছিল। এখন আমরা জায়গা বুঝে পেয়েছি, কাগজপত্রও পেয়েছি। পরে আবার এখান থেকেই ঝামেলা শুরু করে ওরা।

খামার মালিক ওসমান গনির পিতা বলেন, আগুন লাগিয়েছে ওয়াকিবুল্লাহর ছেলে। নুরুল, এনামুল ও শাহীন ষড়যন্ত্র করে এই আগুন লাগিয়েছে। তারা আগে আওয়ামীলীগ করতো, এখন বিএনপি করে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ব্যক্তি ও সম্পদের ওপর এমন নাশকতার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ডিএস/এফআর/এসএ

Explore More Districts