মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যাত্রীদের আগলে রেখেছেন পাইলট: মোদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনের আবেগঘন বার্তা – DesheBideshe

মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যাত্রীদের আগলে রেখেছেন পাইলট: মোদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনের আবেগঘন বার্তা – DesheBideshe



মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও যাত্রীদের আগলে রেখেছেন পাইলট: মোদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেনের আবেগঘন বার্তা – DesheBideshe

নয়াদিল্লি, ০২ অক্টোবর – মাঝ আকাশে ককপিটের ভেতরেই সহকারী পাইলটের হঠাৎ ও বর্বরোচিত হামলা! রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ককপিটের মেঝেতে ঢলে পড়েছেন মূল পাইলট। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি তখন তীব্র গতিতে আছড়ে পড়ার দিকে ধাবমান। কোনো থ্রিলার সিনেমার ঘটনা মনে হলেও, সম্প্রতি তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073) ফ্লাইটে ঠিক এমনই এক শিহরণ জাগানো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল শত শত যাত্রীকে।

তবে নিজের জীবন নিয়ে চরম সংশয় তৈরি হলেও ককপিটের হাল ছাড়েননি বিমানের ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাহসী ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। নিজের প্রাণ বাঁচানোর চেয়ে বিমানের শত শত নিরপরাধ যাত্রীকে রক্ষাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ককপিটের ভয়াল অভিজ্ঞতার স্মৃতিতর্পণ

বুধবার সম্ভাব্য এই বিমান দুর্ঘটনা ও ছিনতাই চেষ্টার হাত থেকে অলৌকিকভাবে রেহাই পাওয়ার পর শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বিশেষ ভিডিও কলে কথা বলেন ক্যাপ্টেন স্মিত।

মোদিকে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্মিত বলেন, “হামলার মুহূর্তে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়ছিলাম। আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় একপর্যায়ে ককপিটের মেঝেতে পড়ে যাই। তখন বুঝতে পারছিলাম বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল আর বোধহয় দাঁড়াতে পারব না। কিন্তু নিজের জীবন সংকটে থাকলেও বিমানের অন্য যাত্রীদের এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে চাইনি।”

শরীরের শেষ রক্তবিন্দু ও জমানো সব শক্তি দিয়ে কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। দরজা খোলামাত্রই বিমানের কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে উন্মুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। পরবর্তীতে অন্য পাইলটরা দ্রুত বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিলে এড়ানো সম্ভব হয় এক মহা বিপর্যয়।

আপনার সাহস ও দ্রুত সিদ্ধান্ত অনেক জীবন বাঁচিয়েছে: মোদি

ক্যাপ্টেন স্মিতের অসাধারণ বীরত্ব, ধৈর্য ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিও কলে মোদি বলেন, স্মিতের অভূতপূর্ব সাহসিকতা ও দক্ষতার কারণেই আজ এতগুলো মানুষের প্রাণ বেঁচে গেছে।

আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন

হামলার পরপরই বিমানটিকে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছিল, যেখানে স্মিতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিমানের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ককপিটে রক্তগঙ্গা বয়ে গেলেও ক্যাপ্টেনের আত্মত্যাগ ও ইস্পাতকঠিন মানবিকতাই সবাইকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে।

এনএন/ ০২ অক্টোবর ২০২৬

Explore More Districts