
তেহরান, ০২ ফেব্রুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করা মৃত্যুদণ্ডের দাবিকে ভুয়া প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ইরানের আলোচিত বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানি। তার আইনজীবী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে।
যে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছিল এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে, ঠিক সেই সময় তেহরান স্পষ্টভাবে জানায়, তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো রায় দেওয়া হয়নি।
২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জামিনে মুক্তি পান বলে জানান তার আইনজীবী আমির মৌসাখানি। তিনি বলেন, মুক্তির সময় এরফান নিজের সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, এমনকি মোবাইল ফোনও ফেরত পেয়েছেন। দুই বিলিয়ন তোমান, যা প্রায় ১২ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের সময় এরফানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে তেহরানের কাছের কারাজ এলাকার একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
ইরানের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এরফানের বিরুদ্ধে ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ফার্সি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দাবি করেছিল, এরফানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে ইরানের বিচার বিভাগ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তার মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য নয়।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সহিংস হয়ে ওঠে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ে হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এই অস্থিরতার জন্য ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তেহরানের ভাষ্য, বিশেষ করে ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চরমে পৌঁছানোর সময় এই দুই দেশ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উসকে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে।
তেহরান স্বীকার করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ পথচারী, আর সহিংসতার জন্য দায়ী ছিল ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।
এনএন/ ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬




