মহেশখালীতে বেপরোয়া সিএনজির চাপায় আয়েশা সিদ্দিকা (৬) নামের এক কন্যা শিশুর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনা পরবর্তী মৃত্যুর বিষয়টি টিটিএনকে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ৯ টায় উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনিপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা স্থানীয় দিনমজুর নুরুল হকের কন্যা।
ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম জানান, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যমতে সকালে শিশুটি বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বেপরোয়া সিএনজি শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এসময় শিশুটি রাস্তায় ছিটকে পড়লে তার এক পা সিএনজির চাকায় পিষ্ট হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় মোস্তফা কাদের জানান, মহেশখালীতে প্রতিনিয়ত বেপরোয়া সিএনজি, ডাম্পার ও টমটমের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু থেকে শুরু করে অনেক মানুষ নিহত, আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এসব লাইসেন্সবিহীন, মাদকাসক্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকারী আইনগত ব্যবস্থা নেয় না। ফলে প্রতিনিয়ত এই সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়ে চলেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে সায়েদ উদ্দিন নামের এক তরুণ বলেন, কিছুদিন আগে মহেশখালীর এসিল্যান্ড প্রধান সড়কের স্পীড ব্রেকার (গতিরোধক) সরিয়ে ফেলেছেন ফায়ারসার্ভিসের গাড়িসহ দ্রুত যান বিভিন্ন ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে না পারার কারণে। স্পীড ব্রেকার সরিয়ে ফেলা তো সমাধান নয়, সমাধান হলো স্পীড ব্রেকার সরানোর পাশাপাশি বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনা। তাদের প্রশিক্ষণ এবং চালক লাইসেন্স যাচাই করা।
মহেশখালী সড়কে নিয়ম শৃঙ্খলা না থাকার ফলে প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিমত জনসাধারণের।


