মঠবাড়িয়ায় ১২ কোটি টাকার সড়ক, তবুও হেলেদুলে চলে গাড়ি

২০ September ২০২৬ Sunday ২:৩২:০৮ PM

Print this E-mail this


মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রায় ছয় কিলোমিটার মিরুখালি সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের জুনে। শেষ করার কথা ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে।

তবে নির্ধারিত সময়ের দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এখন সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও কাদা হয়েছে। গর্ত এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খারাপ ছিল। সংস্কারকাজ শুরু হলে তারা স্বস্তির আশা করেছিলেন। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ কমেনি। বরং বৃষ্টির সময় পানি ও কাদা জমে চলাচলে সমস্যা আরও বেড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত। কোথাও গর্তে পানি জমে আছে। এসব এড়িয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক দিয়ে ভারী ট্রাকে গাছ, ইটসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো আরও নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হালিম দুলাল বলেন, দীর্ঘদিন পর সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় তারা ভেবেছিলেন দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের সমস্যাই রয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুনে ভান্ডারিয়ার ইফতি টিসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সড়ক সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। দুটি প্যাকেজে কাজটির ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের ব্যয় ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সড়ক ও সেতুর কাজসহ মোট তিনটি প্যাকেজে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, তারা যে পরিমাণ কাজ করেছেন, সেই টাকাও এখনো পাননি। বিল পেলে তারা আবার কাজ শুরু করতে পারবেন।

পিরোজপুর এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে।

সরকার পরিবর্তনের পর ঠিকাদার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বিল দাখিল করতে পারেননি। পরে উপজেলা ও পৌরসভা থেকে দুটি স্কিমের মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সড়কের গর্তগুলো সংস্কার করে দিতে বলা হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি বিল বকেয়া রয়েছে। বিল পেলে তারা কাজ করতে পারবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts