মঠবাড়িয়ায় সরকারি রাস্তার ইট তুলে ফেললেন সেচ প্রকল্পের ঠিকাদার

মঠবাড়িয়ায় সরকারি রাস্তার ইট তুলে ফেললেন সেচ প্রকল্পের ঠিকাদার

১ March ২০২৬ Sunday ৭:০৩:৩৪ PM

Print this E-mail this


মঠবাড়িয়া ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

মঠবাড়িয়ায় সরকারি রাস্তার ইট তুলে ফেললেন সেচ প্রকল্পের ঠিকাদার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বুড়িরচর এলাকায় মমিন মসজিদসংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে প্রায় ৪০০ ফুট হেরিংবোন রাস্তার ইট তুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সেচ প্রকল্পের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। রাস্তার ইট তুলে ফেলায় রোগীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার জানান, ‘প্রায় ২০ বছর আগে স্থানীয় হাওলাদার বাড়ির সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক ইঞ্জিনিয়ার মরহুম মতিউর রহমান বেপারীর সুপারিশে সেচ প্রকল্পের একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকে ড্রেনটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় তা এখন বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে নতুন সেচ প্রকল্পের আওতায় মমিন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে থেকে পাইপ নেওয়া হচ্ছে। পাইপের মুখ স্কুল মাঠের দিকে, এরপর মসজিদের পুকুর—পানি কোথায় যাবে তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক কালাম হাওলাদার বলেন, ‘মমিন মসজিদ দেশের ইতিহাসের একটি অন্যতম নিদর্শন। এটি সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, মসজিদকে পুঁজি করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রতিবছর বিভিন্ন দপ্তর থেকে বরাদ্দ আনেন। তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’

তিনি আরও জানান, ‘ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি থাকাকালে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মসজিদের নামে বাথরুম নির্মাণে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ আনা হয়। অথচ আগে থেকেই সেখানে বাথরুম ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সময়ে প্রাইমারি স্কুল থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত ২০০ ফুট হেরিংবোন রাস্তার বরাদ্দ এলেও মাত্র ১০০ ফুট কাজ করা হয়। পরে বাকি অংশের জন্য ধানীসাফা ইউনিয়ন প্রশাসকের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে বর্তমান সদস্য খোকনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক মাসের মাথায় সেচ প্রকল্পের পাইপ বসানোর জন্য পুরো রাস্তার ইট তুলে ফেলা হয়। রাস্তার দু’পাশে পাইপ বসানোর জায়গা থাকলেও তা ব্যবহার না করে ইচ্ছামতো কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদের প্রভাবে প্রায় এক মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের রাস্তা তুলে রাখা হয়েছে। এতে রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবাসন প্রকল্প নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছানোর মাধ্যমে তিনি অর্থ লাভ করেন।’

কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক মমিন বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন তিনি ক্লিনিকে রোগী দেখেন। যাতায়াতের জন্য এই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার ইট তুলে ফেলা ঠিক হয়নি।’

গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন সিরাজী (ইসমাইল খলিফা) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মমিন মসজিদকে পুঁজি করে সরকারি বরাদ্দ এনে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রাস্তা সরকারি নয়। আর সরকারি হলেও সেচ প্রকল্পের বিএডিসির ইঞ্জিনিয়ার রাজু সাহেব রাস্তার ইট সরিয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে মসজিদকে পুঁজি করে বরাদ্দ এনে নিয়মমাফিক কাজ না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।’

পিরোজপুর বিএডিসির ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজু বলেন, ‘রাস্তার ইট সরানোর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।’

২নং ধানীসাফা ইউনিয়নের প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ও জনসাধারণের সুবিধার জন্য রাস্তাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কেন পরিষদের রাস্তা নষ্ট করা হলো, তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts