| ৫ October ২০২৬ Monday ১:০৫:১৫ PM | |
মঠবাড়িয়া ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

এক মণ্ডপেই ১৬০ প্রতিমা। প্রতিমা ঘিরে মহাভারতসহ পৌরাণিক কাহিনি।মাটি, রং আর টেরাকোটার কাজে গড়া একেকটি প্রতিমায় একেকটি আলাদা গল্প।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কবুতরখালীর রাজবাড়ি পূজামণ্ডপে এবার এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন। পূজার আগেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে মণ্ডপটিতে।
আয়োজকদের দাবি, এবারের দুর্গাপূজায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় আয়োজন।ছয় মাস ধরে ১৪ জন শিল্পী-কারিগরের পরিশ্রমে জীবন্ত রূপ পেয়েছে প্রতিমাগুলো। দেব-দেবীর পাশাপাশি পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নানা চরিত্রকে তুলে ধরা হয়েছে টেরাকোটা মাধ্যমে।
কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়িতে এ আয়োজন করেছেন চিকিৎসক দম্পতি সুদীপ কুমার হালদার ও স্নিগ্ধা চক্রবর্তী। তারা জানান, ২০১৬ সালে ৪০টি প্রতিমা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের এ আয়োজন।এরপর পরিসর বেড়েছে বছর বছর; যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ভাবনা।
সুদীপ কুমারের ভাষ্য, ‘৪০টি প্রতিমা দিয়ে শুরু করেছিলাম। মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ আমাদের প্রতিবছর নতুন কিছু করার সাহস দিয়েছে। এবার ১৬০টি প্রতিমায় মহাভারত ও পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
স্নিগ্ধা চক্রবর্তীর ভাষায়, ‘আমাদের কাছে পূজা শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও সুযোগ।তাই ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন গণভোজ আর অসচ্ছল মানুষের মধ্যে কাপড় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আয়োজকরা জানান, পূজামণ্ডপ ঘিরে গণভোজ ও কাপড় বিতরণের মতো সামাজিক উদ্যোগকে আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন তারা।
এদিকে, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও মঠবাড়িয়ার এ মণ্ডপে প্রতিমা দেখতে আসছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। মণ্ডপটিতে এত বেশি প্রতিমা এবং প্রত্যেক প্রতিমার সঙ্গে আলাদা কাহিনির উপস্থাপন দেখে মুগ্ধ তারা।
দর্শনার্থী দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো প্রতিমা ও পৌরাণিক কাহিনি আগে দেখিনি। প্রত্যেক প্রতিমা খুব কাছ থেকে দেখার মতো করে তৈরি করা হয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরে দেখার জন্য এটি দারুণ একটি আয়োজন।’
আরেক দর্শনার্থী রতন বড়াল বলেন, ‘প্রত্যেক প্রতিমার সঙ্গে আলাদা গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা শিশু-কিশোরদের জন্যও শিক্ষণীয়। পূজা শুরু হওয়ার আগেই এত মানুষের আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে।’
পিরোজপুর পৌর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে। পূজা ঘিরে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দোলা গুহ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে এ বছর উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।’
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পিরোজপুরের সাতটি উপজেলায় এবার ৪৮২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রত্যেক মণ্ডপে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘পূজায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |

