নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। নতুন ভবনের কাজ শুরু হওয়ার ১৭ মাস পার হলেও এখনো তৈরি হয়নি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিবেশ। ফলে প্রতিদিন শত শত সেবাপ্রার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে নানা সমস্যার মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় কাজ শেষ করতে পারেন না। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, “সার্ভার ডাউন” বা “কর্মকর্তা অনুপস্থিত”— এমন অজুহাতে তাদের বারবার ফিরে যেতে হয়।
অন্যদিকে অবকাঠামোগত ঘাটতি ও স্থান সংকুলান না হওয়ায় কর্মীরাও স্বাভাবিকভাবে কাজ চালাতে পারছেন না।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল দেড় বছর আগে, কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। অফিসের অস্থায়ী স্থানে জায়গা অপ্রতুল, নেই পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সংযোগ বা আধুনিক সেবা ব্যবস্থা। ফাইল সংরক্ষণ, গ্রাহকের বসার ব্যবস্থা ও শৌচাগার— সব ক্ষেত্রেই অনিয়মিত অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে অফিসের বাইরে সক্রিয় দালাল চক্র অতিরিক্ত টাকা নিয়ে দ্রুত সেবা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বলেন, অফিসে সরাসরি গেলে কাজ হয় না, কিন্তু দালালের মাধ্যমে দ্রুত কাজ হয়ে যায়।
গাজীপুর বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) বলেন, প্রতিদিন গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ বিআরটিএ কার্যালয়ে আসেন। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সঠিক এবং নির্ভুল সেবা প্রদান করার জন্য। সেবা গ্রহীতাদের উদ্দেশ্যে সহকারি পরিচালক বলেন আপনারা সরাসরি বিআরটিএ অফিসের কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ করবেন ।অযথা কোন দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি শিকার হবেন না। তিনি বলেন যদি কোথাও কোন দালাল চক্রের সন্ধান থাকে দ্রুত আমাদের কে জানাবেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
কিন্তু ১৭ মাসেও যখন কর্মপরিবেশ তৈরি হয়নি, তখন প্রশ্ন জাগে কবে নাগরিকরা ভোগান্তিমুক্ত সেবা পাবে?



