
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করে আলোচনায় এসেছেন রাজবাড়ী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোঃ হারুন অর রশিদ।
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী জামিল হিজাযী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। ফলে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ভূমিধ্বস জয় নিশ্চিত করেন হারুন অর রশিদ, যা এ নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হারুন অর রশিদ রাজবাড়ী জেলা বিএনপির দুই বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি রাজবাড়ীর রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলকে সুসংহত করতে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন।
রাজবাড়ী জেলা জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ও জেলা বিএনপির দুই বারের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, হারুন অর রশিদ একজন খোলা মনের ও সাদাসিধে মানুষ। বিগত সরকারের আমলে দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, হারুন অর রশিদের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো—তিনি কখনোই মঞ্চে বসেন না; বরং সব সময় জনগণ ও কর্মীদের কাতারে থাকেন। সিনিয়র নেতাদের মঞ্চে বসার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে বক্তব্য দেওয়ার সময় সামনের দিকে গিয়ে বক্তব্য দেন এবং বক্তব্য শেষে আবার সাধারণ মানুষের কাতারে ফিরে আসেন। শুরুতে বিষয়টি অনেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের চোখে দেখলেও ধীরে ধীরে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণাতেও তিনি কোনো পথসভা বা জনসভায় মঞ্চে বসেননি। রাজবাড়ী-২ আসনের পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ঘুরে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এমনকি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিনেও তিনি ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে নিয়ম মেনে নিজের ভোট প্রদান করেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিশ্রম, সরাসরি জনসংযোগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই তাকে এ অভূতপূর্ব বিজয় এনে দিয়েছে।


