ড. আমানুর আমান
বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্কের সাম্প্রতিক চিত্রে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে—দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চলছে, কিন্তু তার ভারসাম্য নেই। বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপড়েনের মধ্যেও বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে, অথচ ভারতে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় একই জায়গায় আটকে আছে। ফলে প্রশ্নটি শুধু ‘ভারত বাংলাদেশি পণ্য নিচ্ছে না’—এমন সরল ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ রাখলে প্রকৃত সমস্যাটি ধরা পড়বে না। এখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা যেমন আছে, তেমনি ভারতের বাজারব্যবস্থা ও সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধেরও ভূমিকা রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য কম।
এই পরিসংখ্যানই সমস্যার মূল চিত্রটি তুলে ধরে।
বাংলাদেশ ভারত থেকে যত পণ্য আমদানি করছে, তার বিপরীতে রফতানি করছে ছয় ভাগের এক ভাগেরও কম। অর্থাৎ এটি কেবল সাময়িক বাণিজ্যিক বিরোধের ফল নয়; এর মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত অসমতাও রয়েছে।
প্রয়োজনের জায়গায় ভারত, বাজারের জায়গায় বাধা
বাংলাদেশের ভারত থেকে আমদানি বাড়ার অন্যতম কারণ খুব বাস্তব—প্রয়োজন। সুতা, তুলা, কাপড়, কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় ভারত থেকে এসব পণ্য দ্রুত এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া যায়।
বিশেষ করে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে ভারতীয় কাঁচামালের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্দিষ্ট মান বা উৎসের কাঁচামালের প্রয়োজন থাকলে স্থানীয় উৎপাদকদের অনেক সময় সেই চাহিদা মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভর করতেই হয়। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হলেও ব্যবসায়িক প্রয়োজন একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না।
সুতার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও পরিষ্কার। প্রদত্ত তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও সমুদ্রপথে আমদানি বেড়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। কোনো একটি পথ বন্ধ করে দিলেই পণ্যের প্রকৃত চাহিদা শেষ হয়ে যায় না। বাজার প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পথ খুঁজে নেয়। ফলে স্থলবন্দরে বিধিনিষেধ দিয়ে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কাঁচামালের প্রয়োজন থাকলে আমদানি অন্য পথ দিয়ে অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পের যুক্তিটিও অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। দেশীয় মিলগুলো যখন উৎপাদন ব্যয়, বিদ্যুৎ, অর্থায়নসহ নানা চাপে রয়েছে, তখন তুলনামূলক সস্তা আমদানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। সুতরাং নীতিনির্ধারকদের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে রফতানিমুখী পোশাকশিল্পকে সাশ্রয়ী কাঁচামাল দিতে হবে, অন্যদিকে দেশীয় বস্ত্রশিল্পকেও টিকিয়ে রাখতে হবে।
তাহলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে কেন?
এখানেই মূল প্রশ্ন। বাংলাদেশ যদি ভারতের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনতে পারে, তাহলে ভারতের বিশাল বাজারে বাংলাদেশ কেন একইভাবে বিক্রি করতে পারছে না?
এর উত্তর একটিমাত্র কারণে খুঁজলে ভুল হবে।
প্রথমত, বাংলাদেশের রফতানি এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাক এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কিন্তু ভারতের নিজস্ব শিল্প ও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে ভারত নিজেই বড় উৎপাদক। ফলে বাংলাদেশি পণ্যকে সেখানে শুধু ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের পণ্যের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হয়।
দ্বিতীয়ত, বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধু শুল্কই বাধা নয়। পণ্যের মান, সার্টিফিকেশন, পরীক্ষাগার, প্যাকেজিং, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানসহ বিভিন্ন অশুল্ক বাধাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদন করলেও যদি প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন বা বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করতে না পারে, তাহলে বড় বাজারে প্রবেশ কঠিন হতে পারে।
তৃতীয়ত, দুই দেশের মধ্যে এমন শক্তিশালী উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি, যেখানে একটি দেশের কাঁচামাল অন্য দেশের শিল্পে গিয়ে মূল্য সংযোজনের পর আবার তৃতীয় বাজারে বা উভয় দেশের বাজারে প্রবেশ করবে। অথচ ভবিষ্যতের বাণিজ্যের বড় সম্ভাবনা এখানেই।
পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধ কি সমস্যাকে আরও বাড়াচ্ছে?
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, দুই দেশই বিভিন্ন পর্যায়ে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ স্থানীয় বস্ত্র ও সুতা শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার যুক্তিতে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার এবং কয়েকটি পণ্যের স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এখানে কোনো পক্ষকে এককভাবে দায়ী করার চেয়ে একটি বিষয় বোঝা জরুরি—বাণিজ্য যখন রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়, তখন ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়ে। আজ যে পথ দিয়ে পণ্য যাচ্ছে, আগামীকাল সেটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে নিরুৎসাহিত করে।
তবে এটাও সত্য যে এসব বিধিনিষেধের পরও দুই দেশের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে। এর অর্থ হলো রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী।
সমস্যার সমাধান কি শুধু স্থলবন্দর খুলে দেওয়া?
স্থলবন্দর স্বাভাবিক করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে স্থলপথে পণ্য পরিবহন অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত এবং কম ব্যয়ের। কিন্তু শুধু স্থলবন্দর খুলে দিলেই বাংলাদেশের রফতানি হঠাৎ বেড়ে যাবে—এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়।
কারণ বাংলাদেশের সমস্যা আংশিকভাবে বাজারে প্রবেশের সক্ষমতারও সমস্যা। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের আরও বেশি পণ্য নিয়ে যেতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে, মাননিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা উন্নত করতে হবে এবং ভারতীয় ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে হবে।
একই সঙ্গে ভারতকেও এমন একটি বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে যেতে হবে যেখানে বিধিনিষেধগুলো স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নীতির স্থিতিশীলতা।
সামনে সম্ভাবনার জায়গা কোথায়?
এই জায়গায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকে পণ্য প্রবেশের বাধা, বন্ধ স্থলবন্দর চালু, বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশাবাদও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি অবকাঠামো, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, অর্ধপরিবাহী শিল্প, সবুজ হাইড্রোজেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ও তথ্যকেন্দ্রের মতো খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ সম্পর্ককে শুধু ‘কে কত পণ্য বিক্রি করল’—এই হিসাবের মধ্যে আটকে রাখার প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ হতে পারে যৌথ উৎপাদন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা তৈরির মধ্যে। একটি দেশের কাঁচামাল অন্য দেশে গিয়ে মূল্য সংযোজন করে আবার তৃতীয় বাজারে প্রবেশ করতে পারে—এমন ব্যবস্থা তৈরি হলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ ভারতে পণ্য বিক্রি করতে পারছে না—বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। বরং বাংলাদেশ যতটা বিক্রি করতে পারার সম্ভাবনা রয়েছে, ততটা পারছে না। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
এর পেছনে ভারতের বাজারের প্রতিযোগিতা ও মানদণ্ড যেমন রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের পণ্যের সীমিত বৈচিত্র্য, মাননিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা এবং বাজার-উপযোগী উৎপাদনের ঘাটতিও রয়েছে। আবার পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে আমদানি করছে মূলত প্রয়োজনের কারণে। তাই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথ আমদানি বন্ধ করা নয়; বরং এমন সক্ষমতা তৈরি করা, যাতে প্রয়োজনীয় আমদানি অব্যাহত রেখেও বেশি মূল্য সংযোজিত পণ্য রফতানি করা যায়।
বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—ভারত থেকে কীভাবে কম কিনব, তা নয়; বরং ভারতের বাজারে কীভাবে বেশি এবং বৈচিত্র্যময় পণ্য বিক্রি করব। আর ভারতের জন্যও প্রশ্নটি হওয়া উচিত—বাংলাদেশের সঙ্গে কীভাবে এমন একটি পূর্বানুমানযোগ্য বাণিজ্য পরিবেশ তৈরি করা যায়, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়।
দুই দেশের সম্পর্কের বাস্তবতা হলো—কেউই পুরোপুরি অন্যের প্রয়োজনের বাইরে নয়। তাই পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধের চক্র দীর্ঘমেয়াদে কারও জন্যই লাভজনক নয়। বরং আলোচনার মাধ্যমে বাধা কমানো, মান ও সক্ষমতা উন্নত করা এবং বাণিজ্যকে বিনিয়োগ ও যৌথ উৎপাদনের দিকে নিয়ে যাওয়াই হতে পারে দুই দেশের অসম বাণিজ্য সম্পর্ককে ধীরে ধীরে ভারসাম্যের দিকে নেওয়ার বাস্তব পথ।
ড.আমানুর আমান, সম্পাদক প্রকাশক ও মুদ্রাকর, দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইমস
ভারত থেকে কিনছি ১১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, বিক্রি করতে পারছি মাত্র ২ বিলিয়নেরও কম!
- Tags : ১১, ২, কনছ, কম, করত, ডলরর, থক, পণয, পরছ, বকর, বলয়ন, বলয়নরও, ভরত, মতর
Recent Posts
Explore More Districts
- Khulna District Newspapers
- Chattogram District Newspapers
- Dhaka District Newspapers
- Barisal District Newspapers
- Sylhet District Newspapers
- Rangpur District Newspapers
- Rajshahi District Newspapers
- Mymensingh District Newspapers
- Gazipur District Newspapers
- Cumilla district Newspapers
- Noakhali District Newspapers
- Faridpur District Newspapers
- Pabna District Newspapers
- Narayanganj District Newspapers
- Narsingdi District Newspapers
- Kushtia District Newspapers
- Dinajpur District Newspapers
- Bogura District Newspapers
- Jessore District Newspapers
- Bagerhat District Newspapers
- Barguna District Newspapers
- Bhola District Newspapers
- Brahmanbaria District Newspapers
- Chuadanga District Newspapers
- Chandpur District Newspapers
- Chapainawabganj District Newspapers
- Coxs Bazar District Newspapers
- Feni District Newspapers
- Gaibandha District Newspapers
- Gopalganj District Newspapers
- Habiganj District Newspapers
- Jamalpur District Newspapers
- Jhalokati District Newspapers
- Jhenaidah District Newspapers
- Joypurhat District Newspapers
- Kurigram District Newspapers
- Kishoreganj District Newspapers
- Khagrachhari District Newspapers
- Lakshmipur District Newspapers
- Lalmonirhat District Newspapers
- Madaripur District Newspapers
- Magura District Newspapers
- Manikganj District Newspapers
- Meherpur District Newspapers
- Naogaon District Newspapers
- Munshiganj District Newspapers
- Moulvibazar District Newspapers
- Narail District Newspapers
- Natore District Newspapers
- Netrokona District Newspapers
- Nilphamari District Newspapers
- Panchagarh District Newspapers
- Patuakhali District Newspapers
- Pirojpur District Newspapers
- Rajbari District Newspapers
- Rangamati District Newspapers
- Satkhira District Newspapers
- Shariatpur District Newspapers
- Sherpur District Newspapers
- Sirajganj District Newspapers
- Sunamganj District Newspapers
- Tangail District Newspapers
- Thakurgaon District Newspapers


