
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি – ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করছে এবং তা অব্যাহত রাখবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকায় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যৌথ ত্যাগ ও সহযোগিতা একটি বিশেষ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছে। সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার প্রতি অভিন্ন ভালোবাসা দুই দেশের বন্ধনকে আরও গভীর করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো সাহিত্যিকদের সৃষ্টি আমাদের সংস্কৃতিকে সংযুক্ত করেছে এবং নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক সান্নিধ্য তৈরি করেছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহন, ভারত ও নেপাল থেকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংযোগ, এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শক্তিশালী করার মতো উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতের জন্য আরও দূরদর্শী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রেরণা যোগায়। বিশ্বাস, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, পারস্পরিক স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব টেকসইভাবে বজায় থাকবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠী আমাদের অর্থনীতি ও সমাজকে দ্রুত বর্ধনশীল করছে। একসাথে আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর নির্মাণ করতে পারলে উভয় দেশের উন্নয়ন হবে। এছাড়া পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব।
শেষে তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে মূল্যায়ন করছে এবং দেশের জনগণের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানও বক্তব্য দেন।
এনএন/ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬



