| ৮ September ২০২৬ Tuesday ৭:৩১:৩৩ PM | |
ভান্ডারিয়া ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ভাঙারি মালামাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পৌনে চার লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভাঙারি ব্যবসায়ী আছাদুল ইসলাম (৩৫) বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী এলাকার বাসিন্দা আছাদুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে স্ক্র্যাপ ও ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যবসায়িক পার্টনার খুলনার মনিরুল ইসলামের সূত্রে ভাণ্ডারিয়ার ভাঙারি ব্যবসায়ী সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে সুমনের কাছ থেকে ভাঙারি মালামাল কিনতে ভাণ্ডারিয়ায় আসেন আছাদুল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে সুমন এবং স্থানীয় ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা সেখানে আসেন। মালামাল দেওয়ার কথা বলে আছাদুলের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। এরপর ভাণ্ডারিয়া বাজারের সিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজীর হাতে তুলে দেন আছাদুল। একই সঙ্গে ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে আরও ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন তিনি।
সর্বমোট ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আদায়ের পর আসামিরা তাকে মালামাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে উপজেলার রাজপাশা গ্রামের সাবেক বিএনপি নেতা মশিউর রহমান টিটু হাওলাদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মালামাল না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেন অভিযুক্তরা।
আছাদুল অভিযোগ করেন, প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে তাকে টিটু হাওলাদারের ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার বাম পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা এবং ৩৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর তিনি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. রুবেল হাওলাদার, মো. সোহাগ মৃধা, অরুণ বৈরাগী, সাগর মণ্ডল, মো. সোহাগ হাওলাদার, সুকান্ত, সুমন ও সঞ্জয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, মারধর ও অর্থ ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
