আকাশ মাখিজা ও রামদীপ যাদব—এই দুই চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে বাবু চরিত্রটি ভয়ের কারণ হয় তার নিষ্ঠুরতার জন্য নয়, বরং তার স্বাভাবিকতার জন্য। সে যেন পাশের বাড়ির একজন সাধারণ মানুষ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্ধকার এক জগৎ।
সিরিজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সময় নির্মাণ। সত্তরের দশকের দিল্লিকে যত্নের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মোবাইল ফোন নেই, সিসিটিভি নেই, ডিজিটাল ডেটাবেজ নেই। তদন্ত এগোয় মানুষের স্মৃতি, সাক্ষ্য, কাগজপত্র, স্কেচ আর নিরলস অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করে। এই প্রেক্ষাপট সিরিজটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। কারণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তের যুগে দাঁড়িয়ে সেই সময়ের পুলিশি অনুসন্ধান দেখতে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
একই সঙ্গে সিরিজটি তুলে আনে তৎকালীন ভারতের সামাজিক বাস্তবতাও। জয়প্রকাশের দলিত পরিচয়, তাঁর বাবার সংগ্রাম, মুসলিম সহকর্মী ও সাংবাদিক বন্ধুদের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নির্মাতারা সমাজের এক বিস্তৃত ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে জয়প্রকাশ ও তাঁর বাবার সম্পর্ক সিরিজটির আবেগঘন অংশগুলোর একটি। বাবা জীবনের বাস্তবতা মেনে নিয়ে টিকে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন, আর ছেলে বিশ্বাস করে যোগ্যতা ও ন্যায়বিচারে। দুই প্রজন্মের এই মানসিক সংঘাত গল্পকে আরও গভীরতা দিয়েছে।

