বৈষম্য কমাতে দরকার অর্থনৈতিক সংস্কার
যদি বৈষম্যকে আমরা প্রধান সমস্যা মানি এবং সম্পদ ও আয়ের সুষম বণ্টনকে করণীয় ভাবি, তাহলে দায়িত্ব হয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার। বৈষম্য কমাতে ও সমাজের সুষম অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বহু ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়। যেমন সম্পদকর ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস ও সম্প্রসারণ, সংসদ সদস্যসহ নানান জনের শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আনা বন্ধ করা, ব্যক্তি করদাতাদের পরিসর বাড়ানো, করহার পুনর্বিন্যাস করা, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির কর বৃদ্ধি, অর্থ পাচারে জিরো টলারেন্স, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ রাখা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি আইন করা, শিল্পের মুনাফায় শ্রমিকের হিস্যা বাড়ানো, নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টের দিকে যাওয়া, অর্থনীতির অপ্রাতিষ্ঠানিক দিকে করের আওতা সম্প্রসারণ, সারচার্জের ফাঁকি বন্ধ করা ইত্যাদি।
কর আদায়ের ব্যবস্থা দুর্নীতিমুক্ত করা গেলে এবং তাতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা কায়েম করা গেলেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বিপুলভাবে বাড়বে। গবেষণা সংস্থা সিপিডি ১২৩টি কোম্পানির ওপর এক গবেষণা শেষে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল প্রাপ্ত ফল তুলে ধরে জানিয়েছিল, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর ফাঁকির মাধ্যমে আনুমানিক ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বঞ্চিত হয়েছে দেশ। এর মধ্যে করপোরেট কর ফাঁকি অর্ধেক। ৪৫ শতাংশ কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল।
২০২৩ সালে যত টাকা কর ফাঁকি দেওয়ার কথা, সিপিডির গবেষণা অনুমান সেটি ২০২৪ সালে আদায়কৃত রাজস্বের (৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা) প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ! তার মানে দুর্নীতি ও কর ফাঁকি রোধ করে বর্তমান ব্যবস্থাতেই অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ দ্বিগুণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সেই দেশজ সম্পদ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দিকে স্থানান্তরেও কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের শিক্ষা–সহায়তা, প্রশিক্ষণ–সহায়তা, আবাসন–সুবিধায় বিনিয়োগ, তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, একটি বিশেষ বয়স শেষে সবার জন্য পেনশন–সহায়তা দেওয়া ইত্যাদি।

