বেতাগীতে সেতু আছে, পথ নেই: বাঁশ-সুপারি গাছে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

৮ September ২০২৬ Tuesday ৭:৪৫:১০ PM

Print this E-mail this


বেতাগী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরাদ্দ শেষ, কাজের মেয়াদও পার হয়েছে গত দুই মাস আগে। অথচ সেতু নির্মিত হলেও ওঠানামার কোনো সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়াল তৈরি হয়নি। ফলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের শেরেবাংলা গ্রামের এ সেতুটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও সুপারি গাছের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন দুই গ্রামের শত শত মানুষ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বেতাগী-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক ঘেঁষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের অধীনে ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত জুনে প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংযোগ সড়ক ও প্রটেকশন ওয়াল বা সুরক্ষা দেয়ালের কাজ সম্পন্ন করেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির এক প্রান্ত সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে আছে এবং নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কাঠামোর কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত উত্তর করুণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থানীয় তেঁতুলিয়া বাজার, একটি মাদ্রাসা এবং বেশ কয়েকটি জামে মসজিদ। প্রতিদিন এই জনপথ দিয়ে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। 

সংযোগ সড়ক না থাকায় মূল সেতুতে উঠতে গিয়ে তাদের চরম উৎকণ্ঠায় পড়তে হয়। নিরুপায় হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর সঙ্গে বাঁশ ও সুপারি গাছ লাগিয়ে যাতায়াতের অস্থায়ী পথ তৈরি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক মো. শানু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটি হলেও কোনো সংযোগ সড়ক নেই। বাধ্য হয়ে আমাদের ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাঁশ ও সুপারি গাছের ওপর ভর করে পার হতে হয়, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহ জালাল জানান, প্রতিদিনের ইবাদত-বন্দেগি ও চলাচলের জন্য এই অমানবিক ঝুঁকি নিতে গিয়ে পুরো এলাকাবাসী ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. প্রিন্স এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বৃষ্টির কারণে সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হয়নি। বর্ষাকাল শেষ হলে সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়ালের বাকি কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি।

বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বর্ষার অজুহাতে কাজ আটকে থাকলেও আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন যুগান্তরকে জানান, সেতুটির কাজে অনিয়ম ও ত্রুটির প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পরই ঠিকাদারের বিল স্থগিত রাখা হয়েছে। যেসব স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। সংযোগ সড়কসহ সম্পূর্ণ কাজ বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন না করলে ঠিকাদারকে এক টাকাও সরকারি বিল পরিশোধ করা হবে না।

তিনি আরও জানান, আসলেই ওই সেতুটির একটু সমস্যা হয়েছে। আমরা সেখানে একটি তদন্তও করেছি। আগামী নভেম্বর মাস ছাড়া সেখানে কাজ করা যাবে না। আর এটির বিল পরিশোধের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। কোনো কিছুই এখনো ছাড় করা হয়নি। সেখানকার সব কাজ শেষ করার পর সরকারি যে নিয়ম আছে, সে নিয়ম অনুযায়ী আমরা পেমেন্ট দেব।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts