বিশ্ব মশা দিবস আজ: জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ – DesheBideshe



আজ ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস। মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য হলো একসাথে কাজ করি, মশা সহনশীল সমাজ গড়ে তুলি। মশা আকারে ছোট হলেও এটি ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া এবং ফাইলেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম বাহক।

বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এই প্রেক্ষাপটে দিবসটি পালন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

মশাবাহিত রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট ব্রিটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়ার পরজীবী বহন করে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তিনি পরবর্তীতে চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পান। তার এই ঐতিহাসিক কৃতিত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি প্রবর্তিত হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে মশাবাহিত রোগের মধ্যে ডেঙ্গু সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালে দেশে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে ডেঙ্গু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিস্তারশীল সংক্রামক রোগ। গবেষণায় বাংলাদেশে শতাধিক প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে, যার বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকাতে পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মশা নিধন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে জরুরি। ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এই লড়াইয়ে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এনএন/ ২০ আগস্ট ২০২৬



Explore More Districts