বিশ্ব চালাবে কে—চীন নাকি ইউরোপ

বিশ্ব চালাবে কে—চীন নাকি ইউরোপ

কিন্তু এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বরাবরই মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টরা মুখে যা-ই বলুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত চীনের একদলীয় শাসন উচ্ছেদ করতেই চায়। তারা প্রায়ই প্রেসিডেন্ট ডুয়াইট আইজেনআওয়ারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডালেসের ১৯৫৩ সালে বলা সেই কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে ডালেস বলেছিলেন, ‘মুক্তি’ কেবল যুদ্ধের মাধ্যমেই নয়, বরং ‘অভ্যন্তরীণ চাপের মাধ্যমে’ও অর্জন করা সম্ভব, আর সেটিই কমিউনিস্ট শাসনকে তার চরিত্র পরিবর্তন করতে বাধ্য করবে।

মাও সে–তুং এই ‘শান্তিপূর্ণ বিবর্তন’ কৌশলকে যুদ্ধের চেয়ে ভয়ানক মনে করতেন। কারণ, এটি চীনের কমিউনিস্ট ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সি চিন পিংও সব সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি শক্তি’ হিসেবে দেখে আসছেন।

তাই ইউরোপের চীন সম্পর্কে কোনো ভ্রান্ত ধারণা না রাখা উচিত। সাহসী প্রতিরোধ, জোটগত ঐক্য এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমেই আজকের আত্মবিশ্বাসী স্বৈরতন্ত্রগুলোর বিরুদ্ধে শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্ব গণতন্ত্রের এই দায়িত্ব নিতে না চায়, তাহলে ইউরোপেরই সেই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। অন্য কেউ তা করবে না।

স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

অরভিল শেল এশিয়া সোসাইটির সেন্টার অন ইউএস-চায়না রিলেশনসের পরিচালক।

Explore More Districts