অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এটা পাসের জন্য না তোলার কারণ ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী।
নিজেও গুমের শিকার—এ কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশটি যেভাবে আছে, সেভাবে পাস হলে গুমের শিকার ব্যক্তিরাই অবিচারের শিকার হবেন। সরকার চায়, গুম কমিশন এমনভাবে করতে, যাতে কমিশনের কার্যকারিতা থাকবে, গুমের শিকার ব্যক্তিরাও ন্যায়বিচার পাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেউ কেউ নিজেদের ‘প্রোভাইড’ (জায়গা করে নেওয়া) করার জন্য তাড়াহুড়া করে মানবাধিকার কমিশন, গুম অধ্যাদেশ করেছে—এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দোষ দিতে চায় না। দেড় বছর মেয়াদের সরকার এগুলো করতে চেয়েছে, সে জন্য কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার আছে। অনেক সময় আছে। আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন—এগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আইন করতে চায় সরকার। সে জন্য একটু সময় দরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা এই জিনিসগুলোকে রাজনীতিকীকরণ করেছেন। আমরা যেটা করতে চাই না।’
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আইনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। মানবাধিকার কমিশন আইনের কিছু ধারা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে তদন্ত, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হতে পারে।

