বিগত ১৬ বছরের লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী – DesheBideshe

বিগত ১৬ বছরের লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী – DesheBideshe



বিগত ১৬ বছরের লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী – DesheBideshe

ঢাকা, ১০ এপ্রিল – বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং আগামীতে দেশের যাত্রা কোন দিকে হবে, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এই দল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে বিশ্বাস করে। এই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এর ভেতরে কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশ। কিন্তু ভুল নীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪.২২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে ছদ্ম বেকারত্ব তীব্রতর হচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা কমছে। বর্তমানে কৃষি খাত মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ দখল করলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ। এটি মূলত কর্মসৃজনবিহীন প্রবৃদ্ধির ঝুঁকি নির্দেশ করে।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যও নষ্ট হয়েছে। ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে নেমেছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২০০৫-০৬ সালের ৬৭.২ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ মন্থরতার প্রমাণ। বাজেট ঘাটতি ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো অতিমূল্যায়িত ছিল এবং সঠিক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া বাস্তবায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। উল্টো লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে ১৩ গুণের বেশি বেড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতি নির্ভরশীলতার কারণে এসএমই খাতের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এনএন/ ১০ এপ্রিল ২০২৬



Explore More Districts