বাবুগঞ্জে রাইসা হত্যা মামলায় নতুন মোড় গ্রেফতার নাকি আত্মসমর্পণ

বাবুগঞ্জে রাইসা হত্যা মামলায় নতুন মোড় গ্রেফতার নাকি আত্মসমর্পণ

১৯ March ২০২৬ Thursday ৮:৩৩:১১ PM

Print this E-mail this


বাবুগঞ্জে রাইসা হত্যা মামলায় নতুন মোড় গ্রেফতার নাকি আত্মসমর্পণ

বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে আলোচিত রাইসা মনি হত্যা মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর আসামি থানায় আত্মসমর্পণ করেছে বলে দাবি করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে মামলার দুই নাম্বার আসামি বাবুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আর আগে রাতে মামলার প্রধান আসামি সিফাত শিকদার (১৫)কে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম।

তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠী এলাকা থেকে কিশোর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মামলার আরেক আসামি থানায় আত্মসমর্পণ করে। পরে দুই আসামিকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণ করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। নাম প্রকাশে আত্মসমর্পণকারীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, দুইজনই আত্মসমর্পণ করেছেন।

থানার সিসি ফুটেজ দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে একটি ‘চিরকুট’কে ঘিরে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন রাইসার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে সেটি রাইসার লেখা কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই চিরকুট নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের বক্তব্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

রাইসার বাবা নজরুল হাওলাদার দাবি করেন, ঘটনার পর তারা ঘর খুঁজে কোনো চিরকুট পাননি। পরে পুলিশ হঠাৎ একটি কাগজ উদ্ধারের কথা জানায়। তার অভিযোগ, আসামিদের বাঁচাতেই এই চিরকুট সামনে আনা হচ্ছে।

নিহত রইসার চাচা ফিরোজ হাওলাদার জানান, ঘটনার আগে অভিযুক্ত কিশোর রাইসাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিল। বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি, বরং তাদের হুমকি দেওয়া হয়। ছেলের বাবার প্রশ্রয়েই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ কারণেই মামলায় কিশোরের বাবাকেও আসামি করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের উত্তর রাকুদিয়া গ্রামে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ১০ বছর বয়সী কিশোরী রাইসা আক্তারকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৭ মার্চ নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় পিতা জালাল শিকদার ও ছেলে সিফাত শিকদারকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts