বানিয়াচংয়ে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে মাইকিং, সর্বত্র সমালোচনার ঝড় – Habiganj News

বানিয়াচংয়ে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে মাইকিং, সর্বত্র সমালোচনার ঝড় – Habiganj News

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রকাশ্যে হাটবাজারে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা ও ‘বিচার’-এর আল্টিমেটাম দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে। বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা মহল্লার আজিজুর রহমান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়।

মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়, আগামী ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) যাত্রাপাশা মোকাম হাটি মসজিদে তার বিরুদ্ধে ‘বিচার’ অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের বড়বাজার শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে এই মাইকিং প্রচারণা নজরে আসে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা তারা দেখছেন।

অভিযুক্ত আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগে এমন প্রচারণা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রচারণাকারী মো. মুনাফ মিয়া জানান, আপাতত অপরাধের বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ৯ জানুয়ারি বিচার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেদিন বিচারক উপস্থিত সবাইকে অপরাধের বিষয়টি জানাবেন। তিনি আরও জানান, তাকে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বড়বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া বলেন, “সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন, তার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে আদালতেই হওয়া উচিত। এভাবে প্রকাশ্যে মাইকিং করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে অপমান করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনবিরোধী।”
স্থানীয় এক মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা সাব্বির আহমেদ বলেন, “ইসলামে কোনো মুসলমানকে প্রকাশ্যে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধ করার কোনো বিধান নেই। কোরআন-হাদিসেও এমন কিছু উল্লেখ নেই। ঘটনাটি দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।”

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট কুতুব উদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রকাশ্যে মাইকিং করে কাউকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ও বিচারের আল্টিমেটাম দেওয়া স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতেই হতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এমন বিচার করার আইনগত ক্ষমতা নেই।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারেক রহমান শাওন বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাগের কারণে কাউকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নামাজ পড়তে নিষেধ করা সংবিধানবিরোধী। সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। ধর্ম পালন ও অনুশীলনের মধ্যে নামাজ আদায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত।
ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে হাটবাজার, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথীর বক্তব্য জানতে তার সরকারি মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Explore More Districts