| ২০ January ২০২৬ Tuesday ৭:২৬:৫৭ PM | |
রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের বানারীপাড়ায় পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারনে একটি নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এসময় দুটি গুদামসহ কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এ অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল ৫ টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বানারীপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিনেমা হল রোড সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স জাবের প্লাস্টিক অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কারখানা থেকে ১২০ বস্তায় পলিথিন তৈরির প্রায় তিন হাজার কেজি কাঁচামাল (পিপিই দানা) এবং ৩৩ বস্তায় ৭২০ কেজি তৈরীকৃত নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এসময় কারখানার মালিক ও ম্যানেজার সহ কর্মচারীরা পালিয়ে যায়।
জব্দকৃত কাঁচামাল ও নিষিদ্ধ পলিথিনের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে জব্দকৃত কাঁচামালের মূল্য ৬ লাখ ও নিষিদ্ধ পলিথিনের মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযানে অংশ নেওয়া বানারীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জি এম এ মুনীব জানান, একই স্থানে কাঁচামাল ও প্রস্তুত নিষিদ্ধ পলিথিন পাওয়ায় সেখানে গোপনে পলিথিন উৎপাদনের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। তবে অভিযানকালে কারখানার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুজ্জামান বলেন, ‘নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়। জব্দকৃত পলিথিন ও কাঁচামাল পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।’ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে যৌথ মালিকানায় পরিচালিত এ কারখানার এক মালিক মো. জিয়া উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে ‘তাদের কারখানায় অনুমোদন অনুযায়ী শুধু প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল দাবি করলেও জব্দকৃত নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় কিভাবে এলো সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারী একই কারখানায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ১৭৫ কেজি কাঁচামাল ও ৩২৪ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিনের রোল জব্দ করে কারখানাটি সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন অবৈধ এ কারখানার ম্যানেজার পনিরুজ্জামানের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়।পরবর্তীতে অদৃশ্য শক্তির সহায়তায় আবার কারখানাটি চালু করে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়। দ্বিতীয় বারের মত সোমবার পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালতে কাঁচামাল ও নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দসহ কারখানাটি সিলগালা করা হলেও জনমনে প্রশ্ন জেগেছে এটা কি স্থায়ীভাবে বন্ধ হল না কি অদৃশ শক্তির সহায়তায় আবার চালু হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


