| ২২ March ২০২৬ Sunday ৫:৪১:৫৭ PM | |
রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি:

বরিশালের বানারীপাড়ার উদয়কাঠী বাজারের মুদি ও বিকাশ ব্যবসায়ী মোঃ তৈয়ব বাহাদুরের (৪৫). রশি দিয়ে গলা ও হাত বাধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত তৈয়ব বাহাদুর উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামের
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আজাহার বাহাদুরের ছেলে। জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত তিনি উদয়কাঠী বাজারে তার মুদি ও বিকাশের দোকানে ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
রাত ১১টার পর দোকান বন্ধ করে দিনের লেনদেনের টাকা সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু গভীর রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী উদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি জমিতে জমে থাকা পানিতে (জলাশয়) রশি দিয়ে গলা ও পিছন দিকে (পিছমোড়া) দুহাত বাধা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার (২২ মার্চ) ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাটিকে রহস্যজনক ও পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে মনে করছেন। তার স্ত্রী ও দুটি নাবালক ছেলে সন্তান রয়েছে। উদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মামুন উর- রশিদ স্বপন জানান শনিবার রাত ১১টার ৫/১০ মিনিট আগেও উদয়কাঠী বাজারের তৈয়বের দোকান লাগোয়া চায়ের দোকানে তৈয়ব বাহাদুরের সঙ্গে তার আলাপচারিতা হয়। রাত পৌণে চার টার দিকে স্থানীয়রা তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বাড়ি ফেরার রাস্তার পাশে জমির জলাশয়ে ব্যবসায়ী তৈয়বের লাশ পাওয়ার কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রশি দিয়ে গলা ও পিছন মোড়া করা দু’হাত বাধা মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। তৈয়বের মরদেহের পাশে তার ব্যবসায়িক
চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগে ত্রিশ হাজার চার শতাধিক টাকা পাওয়া গেলেও বেশী টাকা রাখার ব্যাগটি পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়ী
তৈয়ব বাহাদুর অত্যন্ত
নম্র ও ভদ্র স্বভাবের এবং তার পরিবারের আপনজন ছিলেন জানিয়ে এ মৃত্যু রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান সাবেক এ ইউপি চেয়ারম্যান।
এলাকাবাসীর ধারণা, দোকানের মোটা অংকের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরিচিত একটি চক্র তার ওপর হামলা চালিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং চিনে ফেলায় তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান জানান, বানারীপাড়া-উজিরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সৌমেন্দ্র কুমার বাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তৈয়ব বাহাদুরের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


