বাকেরগঞ্জে পেনশনের টাকায় পুকুরে মাছ চাষ, বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

বাকেরগঞ্জে পেনশনের টাকায় পুকুরে মাছ চাষ, বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

৩০ July ২০২৬ Thursday ১১:৩৫:৫৪ PM

Print this E-mail this


নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাকেরগঞ্জে পেনশনের টাকায় পুকুরে মাছ চাষ, বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

অবসরে গিয়ে পেনশনের টাকায় বরিশালের চরামদ্দি ইউনিয়নে প্রায় তিন একর জমির তিনটি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার। স্বপ্ন ছিল অবসর জীবনে মাছ চাষের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের। কিন্তু তার সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বৃত্তরা। মাছ চাষের এক মাসের মাথায় রাতের আঁধারে তিনটি পুকুরেই বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলা হয়েছে মাছগুলো।

আবুল কালাম মজুমদারের অভিযোগ, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তার তিনটি পুকুরের ২ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আবুল কালাম মজুমদার বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, চাকরি থেকে অবসরের পর পেনশনের টাকার একটি অংশ বিনিয়োগ করে বাড়ির তিনটি পুকুরে পোনা এবং বড় সাইজের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করেন। মাছ চাষের মাধ্যমে অবসর জীবনে বাড়তি আয়ের একটি উৎস গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল তার।

ঘটনার দুইদিন আগেও তিনটি পুকুরে ২০ হাজার টাকার মাছের খাবার দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। ২৯ জুলাই সকালে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখতে পান, পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

আবুল কালাম মজুমদার বলেন, পুকুর তিনটি আমাদের পারিবারিক। এলাকায় আমার জমি-জমা নিয়ে বিরোধ বা কোনো শত্রুও নেই যে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলবে। তবে আবির মজুমদার নামের একজন চাচাতো ভাই আছে, যিনি পুকুর তিনটি লিজ নিতে চেয়েছিলেন। এ জন্য আবির অনেক ঝামেলাও করেছেন। কিন্তু অংশীদাররা তাকে না দিয়ে আমাকে মাছ চাষের জন্য দিয়েছেন। এর জের ধরে সে এটা করতে পারে। তবে যেহেতু রাতের আঁধারে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তাই কে করেছে সেটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।

আবুল কালাম বলেন, বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানাধীন চরাদী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি একটি লিখিত অভিযোগও গ্রহণ করেছেন তারা।

তিনি বলেন, অনেক কারণেই মাছের মৃত্যু হতে পারে। যে কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সরাসরি বিষ প্রয়োগে নিধন বলা যাচ্ছে না। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে। মৎস্য অফিসের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষ প্রয়োগে সাবেক কৃষি কর্মকর্তার তিনটি পুকুরের মাছ নিধনের অভিযোগ আমাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে। আমি মারা যাওয়া মাছের নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে মৎস্য অফিসে নিয়ে আসতে বলেছিলাম। তিনি বৃহস্পতিবার আসবেনও বলেছেন। কিন্তু না আসায় পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী আবুল কালাম মজুমদার বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এ কারণে মৎস্য অফিসে যেতে পারিনি। আগামী রোববার নমুনা নিয়ে মৎস্য অফিসে যাবো।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts