| ৯ February ২০২৬ Monday ২:৫২:১৮ AM | |

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ কমপেক্ষ ৫০জন আহত হয়েছে। রবিবার দুপুর সারে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান এলাকার ভান্ডারিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে মো. জুয়েল (৩৩), মো. নয়ন (১৭) মোসা. লিমা জাহান (২৫) মো. শাহজালাল (২০), মো. সুজন (২৬), মো. শহিদুল বেপাড়ি (২৭) মো. হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫) মো. আমিনুল মাততুব্বর (৩৫) মো. নুরু মাতুব্বর (৩৫) মো. সাইফুল শরিফ (৩৫) মো. আল আমিন চৌকিদার (২৫) ও মো. সোহাগ (২৭)সহ মোট ২৪জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া মো. জামাল মৃধা নামে এক জামায়াত কর্মীকে আশংকাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, রবিবার সারে ১২টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারনা করেন। এ সময় বিএনপির কর্মীরা নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাদের বাঁধাগ্রস্থ করে। খবর পেয়ে মিছিল নিয়ে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যাপী সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ ৫০জন আহত হয়। এ ঘটনার পর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে থমথম অবস্থা বিরাজ করতেছে।
এদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকাল সারে ৩টার দিকে হাসপাতাল সড়কে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জনতা ভবনের সামনে গিয়ে ফিরে হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে মিছিল কারীরা মো. শামিম নামে এক বিএনপি সমর্থককে মারধর করে। এ সময় বিএনপির কর্মীরা এগিয়ে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হলে ৮ থেকে ১০জন আহত হয়।পরে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমানকে বদলীর দাবীতে থানার সামনের বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করে রাখে। এই নিউজ লেখা পর্যন্ত সন্ধা সারে ৬টায় এই অবরোধ চলছিল।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। আমরা তার বদলীর দাবীতে অনড় অবস্থায় রয়েছি। তার ইন্দনেই জামায়াতের কর্মীরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে।উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক আপেল মাহমুদ ফিরোজকে ফোন দিলে তিনি নিজেকে অসুস্থ বলে ফোন কেটে দেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তারা (জামায়াত) যে সকল অভিযোগ আমার প্রতি এনেছেন, সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ ভুমিকা রেখে চলছি। চন্দ্রদ্বীপসহ উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। আমরা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করছি।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


