বাউফলে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনে নীতিমালা লঙ্ঘন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ

৯ September ২০২৬ Wednesday ৭:০২:৫৩ PM

Print this E-mail this


বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর অদূরে নতুন করে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের আবেদনে কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা লঙ্ঘন, তথ্য গোপন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া নাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ওই কেন্দ্রের ভেন্যু বা সহযোগী কেন্দ্র হিসেবে এতদিন কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করে। পরে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মূল কেন্দ্রে সাতটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে গত ১২ আগস্ট কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ। চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ সুপারিশসহ আবেদনটি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কেন্দ্র স্থাপনের আবেদনে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা অনুমতি ছাড়াই ওই বিদ্যালয়ের নাম আবেদনপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।
আবেদনপত্র ও কেন্দ্র স্থাপনের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনা করে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে, কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে কমপক্ষে ৫০০ শিক্ষার্থী এবং যে পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রের জন্য আবেদন করা হবে, সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে কমপক্ষে ১০০ শিক্ষার্থী থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৪০০ জনেরও কম এবং দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৮০ জন। এছাড়া আবেদনপত্রে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির প্রতিস্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও জমা দেওয়া আবেদনে তা নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আবেদনে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা নিতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। অভিযোগকারীদের দাবি, এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোও ওই বিদ্যালয়ে নেই।
এদিকে, কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, হায়াতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ও ফলাফল কয়েক বছর ধরে কমে আসছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বাউফল উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন বলেন, “২০১২ সাল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আমাদের কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হঠাৎ পাশের বিদ্যালয় নতুন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছে। ওই আবেদনে কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও সেখানে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করা বেআইনি। এর বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মাদ হারুনূর রশীদ বলেন, “যথাযথ নিয়ম মেনেই কেন্দ্রের জন্য আবেদন করেছি। অধিকাংশ বিদ্যালয় আমাদের সঙ্গে একমত। কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম দিয়েছি, তবে তারা তো স্বাক্ষর করেনি। এতে তাদের সমস্যার কিছু নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালেহ আহমেদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “কেন্দ্রের জন্য আবেদন করতেই পারে। আমরা সব বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts