বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া করিডর: শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সমস্যা কাটবে কীভাবে?

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া করিডর: শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সমস্যা কাটবে কীভাবে?

তৃতীয়ত, ৩০ মে ২০২৪ মালয়েশিয়াতে শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার কারণে যেসব শ্রমিক বৈধ কাগজপত্র বা ভিসা থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়া যেতে পারেননি, তাঁদের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা। বিগত এক বছরে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা শ্রমিকদের বিষয়ে অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সফরকালে যাঁরা কলিং ভিসা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারেননি, তাঁদের মালয়েশিয়াতে কাজের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে আশ্বাস দেন এবং মালয়েশিয়া থেকে জানানো হয় এ রকম বৈধ কলিং ভিসা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারেননি, তার সংখ্যাটি আনুমানিক ১১,০০০ হাজার।

আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁদের নেওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে একাধিকবার জানান দেন। যদিও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা সম্প্রতি বলেছেন যে প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া আট হাজারের মতো (গতবার না যেতে পারা) শ্রমিককে মালয়েশিয়াতে কাজের সংস্থান করে দেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সি মালিক ও সংবাদমাধ্যমের সূত্রমতে, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

কিন্তু মালয়েশিয়ার সরকার সম্প্রতি যে সংখ্যাটি বলেছে, তা খুবই কম। সুতরাং প্রকৃত সংখ্যাটি আসলে কত, কী নিরূপণ জরুরি এবং অন্য যাঁরা একই পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন, তাঁদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাও আলোচনায় আসা উচিত। তাঁদেরকেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বা পুনর্বাসনের জন্য ও জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

অভিবাসী শ্রমিকেরা আমাদের জাতীয় আয়ের অন্যতম মূল উৎস। তাঁরা সম্মানের সঙ্গে যাতে মাইগ্রেশন করতে পারেন এবং নিশ্চয়তার সঙ্গে তাঁরা গন্তব্য দেশে যাতে কাজ পেতে পারেন—এর নিশ্চয়তা বিধান করা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং অগ্রাধিকারের বিষয়। তা না হলে আমাদের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • ড. মোহাম্মদ রাশেদ আলম ভূঁইয়া পিএইচডি (অভিবাসন ও অনিশ্চয়তা/ ঝুঁকি), সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, রামরু

Explore More Districts