বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি – DesheBideshe

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি – DesheBideshe

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে ৭৫ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ৩০ জানুয়ারি – বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ জন আইনপ্রণেতা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে তারা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অবিলম্বে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেংসহ ৭৫ জন কংগ্রেসম্যান ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কংগ্রেসম্যানরা জানান এই স্থগিতাদেশের ফলে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি এশিয়ান আমেরিকান বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারছেন না। একই সঙ্গে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন যা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে কার্যত উপেক্ষা করার শামিল।

কংগ্রেসম্যানরা তাদের চিঠিতে বলেন যারা পারিবারিক ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও চাকরির উদ্দেশ্যে প্রচলিত নিয়ম মেনে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন তাদের সঠিক উপায়ে আসতে বলা হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিঠিতে একে নির্দয় আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেও অভিবাসনে আগ্রহীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

উল্লেখ্য গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ পাকিস্তান আফগানিস্তান রাশিয়া ইরান থাইল্যান্ড ব্রাজিল কুয়েত সোমালিয়া নাইজেরিয়া ইয়েমেন ও ইরাকসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে মার্কিন সরকারি কল্যাণভাতা গ্রহণ করে সেসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। নতুন অভিবাসীরা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবে না এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়। এছাড়া পররাষ্ট্র দপ্তর কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পাবলিক চার্জ নীতির আওতায় ভিসা আবেদন বাতিলের ক্ষমতাও দিয়েছে।

এই নীতি অনুযায়ী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে নিজের খরচে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না তা যাচাই করা হয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী কেউ সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে মনে হলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে।

গত বছরের নভেম্বরে সব মার্কিন দূতাবাসকে এই পাবলিক চার্জ বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে চলেছেন যার অংশ হিসেবে বড় পরিসরে এই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এনএন/ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬



Explore More Districts