বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী স্বশিক্ষিত, মামলা বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী স্বশিক্ষিত, মামলা বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

২ January ২০২৬ Friday ৯:০০:১৭ PM

Print this E-mail this


গৌরনদী ((বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী স্বশিক্ষিত, মামলা বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে মোট ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

দাখিল করা ৪৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বরিশাল-১ আসনে মাত্র পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। যদিও এ আসনে আটটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সোবাহানও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা অনুযায়ী, বরিশাল-১ আসনে কেবল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স্বশিক্ষিত এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এইচএসসি পাস। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে একজন এমএসএস, একজন বিএসসি (প্রকৌশলী) এবং একজন এলএলবি পাস।

অপরদিকে হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাংকঋণ নেই। তবে সবচেয়ে বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সোবাহানের বিরুদ্ধে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন এমএসএস পাস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না থাকলেও ২০০৯ ও ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল, যেগুলোতে তিনি খালাস পেয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পদ ও চাকরি/কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত সম্মানিসহ তার মোট বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৪ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৮৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮ টাকা এবং ছেলের আয় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ২২৫ টাকা।

জহির উদ্দিন স্বপনের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬০ টাকা। তার স্ত্রী ডালিয়া রহমানের অস্থাবর সম্পদ ২ কোটি ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং ছেলের অস্থাবর সম্পদ ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৬৮ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে জহির উদ্দিন স্বপনের রয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তার ঋণের পরিমাণ ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩ হাজার ৯১০ টাকা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সোবাহান বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং পেশায় অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশল পরামর্শক।তার স্ত্রী পারভীন সুলতানা পেশায় ব্যবসায়ী। হলফনামায় তিনি আটটি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে তিনটিতে খালাস পেয়েছেন এবং পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

আব্দুস সোবাহানের বার্ষিক আয় ৩৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ টাকা এবং তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৩ টাকা। ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হারে বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৯ টাকা এবং তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৭ টাকা। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তার রয়েছে ৬৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং তার স্ত্রীর রয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ১ হাজার ৯৮১ টাকা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী এলএলবি পাস এবং পেশায় একজন আইনজীবী। তার বার্ষিক আয় ২৯ লাখ ১২ হাজার ৪৫৪ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ ৫৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ টাকা এবং তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রার্থীর নিজ নামে ৫ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া জমির বায়না গ্রহণসংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার এইচএসসি পাস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী গৃহিণী হওয়ায় তার নামে কোনো সম্পদ নেই। রাসেল সরদারের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। তার নিজের রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি মাছের খামার।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান স্বশিক্ষিত এবং পেশায় একজন তাফসিরকারক। বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকলেও তা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্ত্রী গৃহিণী হওয়ায় তার কোনো সম্পদ নেই। কামরুল ইসলাম খান ব্যবসা ও ভাড়া থেকে বছরে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করেন। তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে হাতে নগদ সাড়ে ১০ লাখ টাকা, সাড়ে ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং ব্যাংকে আড়াই লাখ টাকা। এছাড়া কৃষিজমি ও বাড়িসহ তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৯৬৬ টাকা।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

Explore More Districts