দলীয় সূত্র জানায়, এসব নেতারা দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় একাধিক সভা-সমাবেশ করলেও কোনো ইউনিটেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। এমনকি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও চোখে পড়ার মতো নয়। এতে তৃণমূল পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনটি জেলার অন্তত সাতজন সাবেক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, গত দেড় দশকে বিএনপি নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশে সাংগঠনিক দুর্বলতাও প্রকট হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দমনপীড়নে দলের নেতা–কর্মীরা রাজপথে দাঁড়াতে পারেননি। মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে তাঁরা পরিবার ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির নেতা–কর্মীরা আবার সক্রিয় হয়েছেন। তবে দুর্বল কাঠামোর কারণে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছেন তাঁরা। জেলা ও উপজেলাগুলোর কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় ‘চেইন অব কমান্ড’ কার্যকর হচ্ছে না।
জানতে চাইলে ভোলা জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ভোলায় ইতিমধ্যে কয়েক দফা সভা করেছি। আশা করি, শিগগিরই উপজেলা কমিটিগুলো গঠন করতে পারব। জুলাইয়ের মধ্যেই জেলা কমিটিও গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ রমজান, ঈদসহ নানা দলীয় কর্মসূচির কারণে সময়মতো সম্মেলন আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির এই নেতা।
তৃণমূলের ভোটে কমিটি গঠন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠনের চেষ্টা করব। প্রয়োজনে ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব। তবে যেভাবেই হোক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হবে।’
দলের একাধিক সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তরুণদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তাঁরা চান, তাঁদের ঘনিষ্ঠরা জেলা–উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে আসুক। ফলে পাঁচ মাসেও কাউন্সিল না হওয়ার পেছনে এটি একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


