| ৩ April ২০২৬ Friday ১২:৫৪:৪১ PM | |
আমাদের বরিশাল ডেস্ক:

বরিশাল বিভাগজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (মিজেলস)। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, আর সেই চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম)। এখানে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৩ শিশু। একই সময়ে ৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহজনকভাবে ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে । বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছে অন্তত ২৩ শিশু এবং চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৩ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরগুনায় ২৫ জন। এছাড়া বরিশালে ২৪ জন, ঝালকাঠিতে ৫ জন, ভোলায় ৪ জন এবং পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে ২ জন করে শিশু আক্রান্ত হয়েছে। রুবেলা শনাক্ত হয়েছে বরগুনা, ভোলা ও বরিশালে ১ জন করে।
রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় শেবাচিম হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগে হাম আক্রান্তদের জন্য পৃথক ইউনিট চালু করা হয়েছে। গুরুতর রোগীদের জন্য আইসিইউ সুবিধাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ড. মশিউল মোরশেদ।
তিনি জানান, মার্চ মাসেই এই হাসপাতালে শতাধিক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে এবং মোট ভর্তি সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বরিশাল বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনায় ৩ জন, বরিশালে ১ জন এবং ভোলা ও পিরোজপুরে ২ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে রোগ জটিল হয়ে উঠছে। শিশুর জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা চোখ লাল হওয়া এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
হাম ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। অনেকেই অভিযোগ করছেন, টিকা নেয়া শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে যা নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায় আড়াইশ শিশুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬০টির বেশি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভাগজুড়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।
শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, হাম হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং টিকা নেয়া শিশুরাও কেন আক্রান্ত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |


