| ২৩ March ২০২৬ Monday ৭:৪৭:৪৫ PM | |

মোঃআল-আমীন স্টাফ রিপোর্টার : যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের হুমকির অভিযোগের মধ্যে লামিয়া (১৯) নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর গাজীর মেয়ে লামিয়ার সঙ্গে প্রায় ১০ মাস আগে নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া গ্রামের বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে আরিফ বিল্লাহর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা ছিল, লামিয়ার বাবা মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শ্বশুরবাড়িতে তোলা হবে। তবে এর আগেই স্বামীর পরিবার তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বিয়ের সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া হয় এবং একটি নাকফুলও দেওয়া হয়।
লামিয়ার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুর বেল্লাল হাওলাদার, শাশুড়ি আসিয়া বেগম ও দেবর আতিকুর রহমান যৌতুকের দাবিতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে স্বামী তাকে ঢাকায় নিয়ে গেলেও সেখানে অবহেলা অব্যাহত থাকে। এমনকি সংসারের ন্যূনতম খরচ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও তাকে দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের মা হামিদা বেগম বলেন, বিয়ের সময় তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বর্ণের আংটিসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছিল।
এরপরও মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং বারবার টাকা দাবি করা হয়। তাঁর দাবি, টাকার জন্যই তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এর বিচার চান।
পরিবারের ভাষ্য, ব্যবসার জন্য ২ লাখ টাকা দাবি করে লামিয়াকে প্রায়ই না খাইয়ে রাখা হতো। নির্যাতনের কিছু ঘটনা লামিয়া মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী কৌশলে তাকে ঢাকা থেকে তালতলীতে এনে এক সাংবাদিকের সামনে ভিডিও ধারণ করান এবং তার মুঠোফোনটি নিয়ে নেন বলে অভিযোগ।
পরিবার আরও জানায়, এসব ঘটনার জেরে তারা জামাতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তবে লামিয়া বিভিন্নভাবে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ঈদের আগে শ্বশুরপক্ষ থেকে কেনাকাটা করা হলেও দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় তা ফেরত দেওয়া হয়। এতে লামিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঈদের দ্বিতীয় দিন স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, গত ২২ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবার বাড়িতে লামিয়া চাল সংরক্ষণের বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত একটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, নিহতের স্বামী আরিফ বিল্লাহ দাবি করেন, তার স্ত্রী তাকে পছন্দ করতেন না এবং সংসার করতে চাননি। তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো যৌতুক দাবি করা হয়নি। শ্বশুরবাড়ি থেকে কিছু নেওয়া হয়নি, শুধু একটি আংটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম ′আমাদের বরিশাল` কে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক
| শেয়ার করতে ক্লিক করুন: | Tweet |
