মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক চালানের প্রবেশ থামছে না। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি উদ্বেগের। কঠোর অবস্থানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে চলছে দফায় দফায় বৈঠক। নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরক কেউ দেশে আনতে পারে বলে ধারণা তাদের। এতে বাড়ছে উৎকণ্ঠা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে বড়লেখা সীমান্ত এলাকা থেকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ন। উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ২৪টি পাওয়ারজেল নাইনটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন (ভারতের এসবিএল এনার্জি লিমিটেড, নাগপুরে প্রস্তুতকৃত) বিস্ফোরক, ২৩টি ডিটোনেটর, ১৫ মিটার ডিটোনেটর কর্ড এবং ৩ টি পাইপ গান।
উপজেলার পাহাড়ি বনাঞ্চল দিয়ে অস্ত্র নিয়ে আসা হচ্ছে। সীমান্তে অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। এ ছাড়া তাদের অভিযানিক কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়ন।
বিজিবি জানায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে বড়লেখা উপজেলার নিউ পাল্লাথল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম-এর কাছ দিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে-এমন তথ্য পায় বিজিবি। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে একটি টহল দল এবং বড়লেখা উপজেলার নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প (ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে মেজর এম জাহিদের নেতৃত্বে আরেকটি টহল দল যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। পরে সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম থেকে আনুমানিক দুই থেকে তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিস্ফোরক ও অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন কালবেলাকে বলেন, বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতারা বলেন, ‘গণ অভ্যুত্থানের আগে ফ্যাসিস্টদের দোসররা অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছে। এগুলো এবং লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বারবার এসব অস্ত্র উদ্ধারে তাগিদ দিয়েছি। এখন বিস্ফোরকের চালান ধরা পড়ছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান প্রয়োজন।


