ফের ইবোলার থাবা, কঙ্গো-উগান্ডায় জরুরি অবস্থা জারি

ফের ইবোলার থাবা, কঙ্গো-উগান্ডায় জরুরি অবস্থা জারি

ইবোলার থাবাআফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ, একের পর এক মৃত্যু ও সীমান্ত পেরিয়ে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে আফ্রিকাজুড়ে।

রবিবার (১৭ মে) ডব্লিউএইচও জানায়, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণকে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি বলেছে, এই প্রাদুর্ভাব এখনো মহামারি জরুরি অবস্থার মানদণ্ড পূরণ করেনি।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, গতকাল শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত ডিআরসির ইতুরি প্রদেশে অন্তত ৩টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে-বুনিয়া, রওয়ামপারা ও মঙ্গবালুতে ৮০ জনের সন্দেহজনক মৃত্যু, পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া আটটি সংক্রমণ ও ২৪৬টি সন্দেহভাজন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) ডিআরসির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে নতুন এই প্রাদুর্ভাবে ৮০ জন মারা গেছেন।

এদিকে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শুক্রবার ও শনিবার ২টি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আক্রান্তরা ডিআরসি থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন এবং ঘটনাগুলো আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন।

একইসঙ্গে ডিআরসির রাজধানী কিনশাসাতেও একটি নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ইতুরি থেকে ফিরে এসেছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আফ্রিকা সিডিসি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে ‘কমিউনিটিতে সক্রিয় সংক্রমণ’ চলছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীরা ব্যাপক স্ক্রিনিং ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ জোরদার করেছেন।

ইতুরির রাজধানী বুনিয়ায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা আতঙ্ক ও প্রতিদিনের দাফনের চিত্র তুলে ধরেন।

বুনিয়ার বাসিন্দা জ্যঁ মার্ক আসিমওয়ে বলেন, প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে… প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এটা চলছে। একদিনেই আমরা দুই, তিন বা তারও বেশি মানুষকে দাফন করছি। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে আমরা সত্যিই জানি না এটি কী ধরনের রোগ।

ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাস। বমি, রক্ত বা বীর্যের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। এই ভাইরাসজনিত রোগ বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক ও অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী।

শুক্রবার (১৫ মে) প্রথমবারের মতো কঙ্গোতে নতুন এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন ৬৫ জনের মৃত্যু ও ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য জানানো হয়েছিল।

শনিবার (১৬ মে) অনলাইন ব্রিফিংয়ে আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক ড. জ্যঁ কাসেয়া বলেন, প্রথম সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে মঙ্গবালু স্বাস্থ্য অঞ্চলে, যা একটি ব্যস্ত খনিশিল্প এলাকা। রোগীরা চিকিৎসার জন্য অন্য এলাকায় যাওয়ায় সংক্রমণ রওয়ামপারা ও বুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চলে রোগ বিস্তার লাভ করেছে।

কাসেয়া বলেন, বিশেষ করে মঙ্গবালু এলাকায় এখনো বিপুলসংখ্যক সক্রিয় রোগী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেই রয়েছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণকে ‘গুরুতরভাবে জটিল’ করে তুলছে।

তিনি আরও জানান, ইতুরি অঞ্চলের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ইসলামিক স্টেট-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিয়মিত প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে, যার কারণে নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কঙ্গোর আগে থেকেই ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে আক্রান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিতে দেশটিকে প্রায়ই বড় ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়তনের দেশ কঙ্গোর বিভিন্ন প্রদেশ একে অপর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত ও অধিকাংশ অঞ্চলই সংঘাতকবলিত।

Zoom Bangla News

Zoom Bangla News

inews.zoombangla.com


Follow

Follow iNews Zoombangla On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.


Follow iNews Zoombangla On Google

Explore More Districts