
বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরে বহুল আলোচিত ২ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার মামলায় নতুন করে কয়েক জনের নাম জড়িয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে আসামী শ্রেনীভূক্তকরন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামীলীগের কয়েক নেতা। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট অনিমেষ রায়। তিনি জানান, মানি লন্ডারিং মামলায় নতুন করে জেলা ও থানা আওয়ামীলীগের কয়েক নেতা ও জনপ্রতিনিধির নাম অন্তভূক্তের কথা তারা জানতে পেরেছেন। তারা মনে করেন, মানি লন্ডারিং মামলার আসামী সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছেন। তারা নিজেরা যেহেতু বিপদে পড়েছেন, তারা এখন আওয়ামীলীগের কয়েক নেতাকে ফাঁসাতে ফন্দি করছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, ২০১৪ সালে বিএনপি থেকে আসা সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল আওয়ামীলীগের অনুপ্রবেশ করে দলের ত্যাগী নেতাদের কোনঠাসা করে রেখেছিলেন। সেই সময়ের ক্ষমতাশালীরা অনেক নেতা-কর্মীকে নির্যাতন করে। ফলে আওয়ামীলীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী নিরবে রাজনীতি থেকে সরে যায়। অনেকের বিরুদ্ধে হামলা করা হয় দেওয়া হয় মামলা। এখন তারাই আবারো ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদের নামে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামীলীগের নেতারা বলেন, মানি লন্ডারিং মামলার মূল আসামীরা নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে আওয়ামীলীগের নিরিহ কয়েকজন নেতার নাম বলেছেন। যাদের নাম নতুন করে অন্তুভূক্ত হবার কথা শোনা যাচ্ছে, তারা কেউই সেই সময় মানি লন্ডারিং মামলার মূল আসামীদের সাথে ছিলেন না। তারা তাদের বিরোধী ছিলেন। এমনকি যখন ফরিদপুর সদর আসনের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে সুদ্ধি অভিযান চলে তখন অনেকেই সেই সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বিজয় মিছিল ও মিষ্টি বিতরন করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলা হয়, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে যাতে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। নইলে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সাহেব সরোয়ার, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক দীপক মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ বেপারী, কোতয়ালী আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শামচুল আলম চৌধুরী. জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম মোঃ নাছির।