ফরিদপুরের ত্রাস ‘খাজা বাহিনী’ রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেপরোয়া – DesheBideshe

ফরিদপুরের ত্রাস ‘খাজা বাহিনী’ রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেপরোয়া – DesheBideshe

ফরিদপুরের ত্রাস ‘খাজা বাহিনী’ রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেপরোয়া – DesheBideshe

ফরিদপুর, ০৪ ফেব্রুয়ারি – ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ভাটী লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে খায়রুজ্জামান খাজা (৩৮)। এলাকায় তিনি ‘খাজা বাহিনী’র প্রধান হিসেবে পরিচিত। নিজ নামেই গড়ে তুলেছেন খাজা বাহিনী। দীর্ঘদিন এলাকায় চলছে এই বাহিনীর ত্রাসের রাজত্ব। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। যারাই তার কথা অমান্য করে তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়্গ। গত ৫ আগস্টের পরও এই খাজা বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আগে যুবলীগ এখন ভোল পাল্টে যুবদল পরিচয়ে ত্রাসের রাজত্ব বহাল রেখেছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাজার আপন বড় ভাই বর্তমানে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মুহাম্মদ আলতাফ হুসাইন। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতাসহ অন্তত ১৮টি মামলা আছে। পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশের হাতে একাধিকবার আগ্নেয়াস্ত্র, ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতারও হয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জামিনে বের হয়ে পুনরায় শুরু করে তার ত্রাসের রাজত্ব।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে নিজেকে জাহির করতেন। এরপর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার সমর্থক পরিচয় দিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৮ ডিসেম্বর যুবদল নেতার ব্যানারে মিছিল নিয়ে নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে জাহির করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়ে হন। তার বাহিনীতে না ভিড়লে জরিমানা, নির্যাতনের পাশাপাশি করা হয় এলাকা ছাড়া।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমানের হস্তক্ষেপে একটি সাজাপ্রাপ্ত মামলা থেকে তিনি খালাস পেয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি নিজেকে যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমানের আত্মীয় পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন। নিজের পরিচয় জানান দিতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙাতেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতাসহ অন্তত ১৮টি মামলার আসামি এই খায়রুজ্জামান খাজা। তিনি ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে হাইওয়ে সড়কে বাসে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। কানাইপুর ইউপিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ভূমি দখলসহ নানান বিষয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২১ সালের ১৫ মে দুই সহযোগীসহ কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল ইয়াবাসহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। এছাড়া একই বছর এলাকায় সহযোগীদের নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ২৮ আগস্ট দেশীয় অস্ত্রসহ খাজা ও তার চার সহযোগী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।

সূত্র: জাগো নিউজ
এনএন/ ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

 



Explore More Districts